আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ বছরের অপেক্ষা। প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় ১৪ বছর পর নিজেদের কার্যালয় পুনরুদ্ধার করল সিপিআই(এম)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম ১ এরিয়া কমিটির অন্তর্গত পুরন্দরপুরে অবস্থিত এই কার্যালয়টি ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ।
বুধবার সেই কার্যালয় অবশেষে 'দখলমুক্ত' করে ফের নিজেদের দখলে নেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। এই ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই সিপিআই(এম)-এর কর্মী-সমর্থকেরা সংগঠিতভাবে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে 'দখলে' থাকা এই অফিস পুনরুদ্ধারের দাবিতে তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। পরে কর্মীরা অফিসের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়।
সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁদের একাধিক পার্টি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছিল।
পুরন্দরপুরের এই কার্যালয়ও সেই সময় জোর করে দখল করা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই অফিস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে তা সম্ভব হচ্ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের উদ্যোগেই এই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
দলের এক নেতা বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি কার্যালয় ফেরত পাওয়া নয়। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কর্মীরা বঞ্চিত ছিলেন। আজ তাঁরা নিজেদের জায়গা ফিরে পেয়েছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওই অফিসটি বহুদিন ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে দলের কোনও কার্যক্রম চলছিল না। তাঁদের অভিযোগ, সিপিআই(এম) রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ করছে। তারা এলাকায় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চলছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো পার্টি অফিস পুনরুদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। পুরন্দরপুরের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত। একইসঙ্গে, আগামী দিনে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।