গত দু’দিন ধরে আসানসোলের বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসা বাড়ছে। যেখানে একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) যৌথভাবে কড়া অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার, জেলা শাসক এস. পুণাম্বালাম এবং সিএপিএফ জেলা সমন্বয়কারী সুনীল কুমার সিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোট-পরবর্তী সময়ে কোনও ধরনের হিংসার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ কমিশনার জানান, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২০০-রও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক মামলা রুজু হয়েছে এবং আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা হিংসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলির অফিস, প্রশাসনিক ভবন বা ধর্মীয় স্থানের বর্তমান অবস্থা বদলানোর কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
জেলা শাসক এস. পুণাম্বালাম বলেন, জেলায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও, এখন ভোট-পরবর্তী সময়ে একইভাবে শান্তি বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পুলিশ ও সিএপিএফ-এর যৌথ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য একটি যৌথ কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে, যেখানে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সিএপিএফ সমন্বয়কারী সুনীল কুমার সিং বলেন, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষকে একই শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি সকলকে হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থাকার এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ ১০০ বা ১১২ নম্বরে ফোন করতে পারেন অথবা নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করতে পারেন।