‘পরিবর্তনের ঢেউ’ আছড়ে পড়ল টলিউডেও! সোমে রাজ্যে প্রথমবার পদ্ম ফোটানোর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ইম্পার সভাপতি পদ থেকে পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট টলিউড সংগঠনের বিজেপি সমর্থক সদস্যরা। মঙ্গলবার ইম্পার অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণের পাশাপাশি বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর গেরুয়া আবিরে রঙিন হতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। এমন আবহেই রটে যায়, ইম্পা সভাপতি পিয়াকে তেড়ে মারতে আসেন টলিপাড়ার সিনেপ্রদর্শক শতদীপ সাহা। ঠিক কী ঘটেছে? সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সংবাদ প্রতিদিন-এর কাছে মুখ খুললেন বনি সেনগুপ্ত এবং শতদীপ উভয়েই।
রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের আবহে মঙ্গলবার সকালেই জানা যায় যে, রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে বিশেষ আলোচনার জন্য পিয়া সেনগুপ্তকে চিঠি মারফৎ আগামী ৭২ ঘণ্টা মধ্যে বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই চিঠিতে সাক্ষর করেছিলেন রতন সাহা, মিলন ভৌমিক, কৃষ্ণনারায়ণ দাগা, গৌতম দাস, কবিতা নষ্কর, মৃত্যুঞ্জয় রায় এবং শতদীপ সাহা। এরপর বিকেলে ইম্পার অফিসে সভাপতি পিয়াকে ঘিরে চূড়ান্ত বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। সেখানেই কি পিয়ার উদ্দেশে তেড়ে গিয়েছিলেন শতদীপ? বনি সেনগুপ্ত জানান, “এই ঘটনা মঙ্গলবারের নয়, ইম্পার নির্বাচনের দিনের। সেদিন কথা কাটাকাটির মাঝে মায়ের দিকে তেড়ে যায় শতদীপ। এখন সবাই ডিগবাজি খাচ্ছে। ও যেহেতু সিসিএল থেকে ব্যান হয়ে গিয়েছিল, তাই মায়ের কাছে এসে দশ মিনিটের ফুটেজ চাইত। এখন সেই শতদীপই বলে বেড়াচ্ছে, মা নাকি বলেছে আমাকে সিনেমা পাইয়ে দিলে আইনক্সে স্লট পাওয়া যাবে। সেটাই যদি হত আমার কত সিনেমা তো আইনক্সে স্লট পায়নি।”
বনি সেনগুপ্তর সংযোজন,”মা ইম্পা নির্বাচনে জিতে পদে বসেছেন। শতদীপরা বছর বছর ইম্পার নির্বাচনে লড়েও মাকে হারাতে পারেনি। এখন মিথ্যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে। ইম্পা তো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। আমরা কখনও ইম্পাতে বসে জয় বাংলা স্লোগান দিইনি। অরূপদারা (বিশ্বাস) আসতেন পাশে থাকার জন্য। এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। কিন্তু ওরা তো গতকাল জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে ইম্পার অফিসে গেরুয়া আবির খেলল, তাহলে ইম্পাতে রাজনৈতিক রং লাগাল কারা?” এদিকে বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ইম্পার বিজেপি সমর্থক সদস্যরা নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মিটিং ডেকেছেন।
সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে শতদীপ সাহাকে এপ্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ইম্পাতে তো সিসিটিভি আছে, একবার আমাকে ওই ফুটেজ দেখাক যে আমি ওর মায়ের সামনেও গিয়েছি। গায়ে হাত তোলা আমার সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। এটা ওদের কালচারের মধ্যে পড়ে। তর্ক-বিতর্ক, বাকবিতণ্ডা কিংবা গলা চড়িয়ে কথা হতে পারে, কারণ উনিও (পিয়া সেনগুপ্ত) গলা উঁচিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমি গালিগালাজও করিনি। কারও গায়ে হাতও তুলিনি। এসব বলে এখন সেন্টিমেন্ট আদায় করতে চাইছে।”
এরপর বন্ধু বনিকেও বিঁধতে ছাড়েননি শতদীপ সাহা। তাঁর সংযোজন, “ও তো লিডিং মোস্ট হিরো, সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে প্রমাণ দিক যে ওর মাকে আমি মারতে গিয়েছি। জনগণই জবাব দিয়েছে। এখন তো আওয়াজ তোলার পালা। সবে একটা শতদীপ দাঁড়িয়েছে সামনে, এরপর যখন লক্ষ লক্ষ শতদীপ সামনে দাঁড়াবে, তখন কী করবে? আমরা মেম্বার হিসেবে পিয়া সেনগুপ্তকে মিটিং ডাকতে বলেছিলাম। কিন্তু উনি চোদ্দো দিনের কথা বলছেন। কিন্তু এটা তো আপৎকালীন পরিস্থিতি। দেশে যুদ্ধ হলে কি চোদ্দো দিন অপেক্ষা করতে হবে বৈঠকের জন্য? উনি ইম্পার গদিচ্যুত হওয়ার ভয় পাচ্ছেন কেন? এটা তো স্বেচ্ছাসেবী পরিষেবা। এমন কি আছে এই পদে? তাহলে ধরে নিতে হয়, এখানে দুর্নীতি হচ্ছে। সেসব প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে। এগুলো অস্বীকার করতে পারবে তো?”,