• স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে অনেক নার্সিংহোমই দোলাচলে, অভিযোগ জানানোর নিদান CMOH-দের
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবারই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করায় অনুমোদন দেবে। ‘সংকল্প পত্রে’-ও সেই কথা বলা ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল জমানার স্বাস্থ্যসাথী থাকবে, না উঠে যাবে তা নিয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার গঠনের আগে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে চলেছেন রোগীরা। এর মধ্যে আবার বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসাথী পোর্টালও ঠিক মতো কাজ করছে না বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তা স্পষ্ট।

    হাওড়ার পেঁড়োর বাসিন্দা বছর ৫৫-র মহিলার ইউটেরাসে সার্জারির দিন ছিল ৫ মে। উলুবেড়িয়ার নার্সিংহোমে সেই অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তাবিত খরচ ৩৫,০০০ টাকা। যার মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ১৭-১৮,০০০ টাকা। পরিবারের দাবি, নার্সিংহোম পুরো টাকা চেয়েছে অপারেশনের জন্য। কিন্তু এই চিত্র শুধু হাওড়ার নয়। বহু রোগীই এমন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকে চিন্তায় রয়েছেন। একাধিক জেলায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষও চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, এই টাকা কোন সরকারের থেকে পাওয়া যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে, রোগীরাও বুঝতে পারছেন না, প্রথমে হাসপাতাল যে টাকা পেমেন্ট করতে বলছে, পরে তার থেকে বেশি টাকা দিতে হবে কি না।

    সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অফিসে কয়েকজন নার্সিংহোম মালিক গিয়েছিলেন কী করণীয় তা জানতে। বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে তাঁদের উপরেই ছাড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে সমস্যা যে বাড়তে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গি কিছু বলতে রাজি হননি। মেদিনীপুরের এক নার্সিংহোম মালিক কল্লোল কুইলা বলেন, ‘আমরা মানুষকে সব ভাবেই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে বুধবার দীর্ঘ সময় পোর্টাল বন্ধ ছিল, এখনই কিছু করতে পারছি না।’

    হাওড়া-হুগলির জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত, মৃগাঙ্কমৌলি কর বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেব’।

    বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসা চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের নাম রাজনৈতিক মহলে ভেসে বেড়াচ্ছে নতুন সরকারের অন্যতম সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে। তিনি আগেই জানিয়েছেন, ‘আমরা সতর্ক রয়েছি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডহোল্ডার যেন চালু পরিষেবার সমস্ত সুযোগ পান, কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত যেন কেউ না হন।’

    ২০১৭-তে রাজ্যে চালু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী। যাতে পাঁচ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবিমার পারিবারিক কভারেজ মেলে। কেন্দ্রের এনডিএ সরকার ২০১৮-তে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করলেও তা এই রাজ্যে চালু করতে দেননি মমতা। তাঁর যুক্তি ছিল, আয়ুষ্মান ভারতের চেয়ে ভালো সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী তো আগে থেকেই রয়েছে রাজ্যে। ফলে এখন যে কেন্দ্রের প্রকল্প দ্রুত আসতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

    প্রশ্ন: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড না নিলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন?

    উত্তর: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করলে বা পরিষেবা দিতে টালবাহানা করলে সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)-এর অফিসে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)