• চিকিৎসক স্ত্রীর মোটা আয়, তাও খোরপোশের খাই, বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় কী রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট?
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • স্ত্রী পেশায় চিকিৎসক। এখন চেম্বার করেন না বা কোনও হাসপাতালের সঙ্গেও যুক্ত নন। তবে ইচ্ছা করলেই যে কোনও সময়ে মোটা টাকা রোজগারের ক্ষমতা আছে তাঁর। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় খোরপোশ বাবদ স্বামীর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা দাবি করে বসেছিলেন তিনি। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিরা। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক স্ত্রী গরিমা দুবের দাবি খারিজ করে দিলেন বিচারপতিরা। ২১ এপ্রিল রায়ে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর যেহেতু রোজগারের ক্ষমতা আছে, তাই খোরপোশ মিলবে না। এই মামলা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়।

    স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই উচ্চশিক্ষিত। পেশায় তাঁরা চিকিৎসক। স্ত্রী গরিমা গাইনোকলজিস্ট। আর স্বামী গৌরব আনন্দ দুবে নিউরো সার্জন। তিন সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। তবে গত কয়েক বছর ধরে সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া, অশান্তি লেগেই থাকত। শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। মামলা করেন নিম্ন আদালতে।

    এত পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু গরিমা তিন সন্তান এবং নিজের জন্য খোরপোশ বাবদ প্রায় লক্ষ টাকা দাবি করে বসেন। বিচারকরা রাজি হননি। তিন সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬০ হাজার টাকা খোরপোশের দাবি মঞ্জুর করে আদালত। কিন্তু স্ত্রীর খোরপোশের দাবি খারিজ করে দেন। এর পরেই এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তরুণী চিকিৎসক। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি বিবেক সরণের ডিভিশন বেঞ্চে শুরু হয় শুনানি।

    চিকিৎসক স্ত্রীর দাবি ছিল, তিনি এখন চাকরিবাকরি করেন না। কী ভাবে আগের মতো জীবন কাটাবেন? তাই তাঁকে খোরপোশ দেওয়া হোক। নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া চতুর্ভুজ বনাম সীতাবাই মামলার উদাহরণ দেন তিনি। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, স্ত্রী যদি নিজের ভরণপোষণ করতে না পারেন, তা হলে স্বামীকে দায়িত্ব নিতে হবে।

    কিন্তু বেঁকে বসেন ওই তরুণীর স্বামী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিন সন্তানের জন্য তিনি প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা করে দিচ্ছেন। কিন্তু স্ত্রী যোগ্য চিকিৎসক। ভালো চাকরি জোটানো তাঁর কাছে কোনও বড় বিষয় নয়। স্ত্রীর আয়কর নথিও পেশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গরিমা বছরে ৩১ লক্ষ টাকার বেশি আয় করতেন। এর পরেই বিচারপতিরা বলেন, ‘স্ত্রীর যদি আয় করার মতো ক্ষমতা থাকে, কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে কাজ না করে স্বামীকে চাপ দেন, তা হলে আদালত তাঁকে খোরপোশ নাও দিতে পারে।’

  • Link to this news (এই সময়)