• টাটাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্যকে? বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগেই রায় দেবে হাইকোর্ট
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • টাটাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্যকে? আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট। নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার আগে এই রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

    সিঙ্গুরে টাটাদের অসমাপ্ত কারখানাটা এখন ভূতের বাড়ির মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইস্পাতের কাঠামোর গা বেয়ে উঠে গিয়েছে লতানে গাছ। সামনে আগাছার জঙ্গল। ইতিউতি ছাগল চরছে। টাটারা পাততাড়ি গুটিয়ে ফিরে গিয়েছে আগেই। কারখানা হয়নি। জমি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছিল টাটারা। এ বার সেই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

    ন্যানো কারখানার জন্য সিঙ্গুরে ৯৯৭ একর জমি দিয়েছিল তৎকালীন বাম সরকার। সেই নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা বাংলা। ‘চাষযোগ্য’ জমিতে কেন শিল্প হবে? সেই প্রশ্ন তুলে আন্দোলন শুরু করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৬ দিনের আমরণ অনশন করেন তিনি। ন্যানো প্রকল্পই গুজরাটের সানন্দে তুলে নিয়ে চলে যায় টাটারা। শেষ পর্যন্ত সরকার বদলে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন মমতা। সেই কারখানা আর হয়নি।

    এর পরেই টাটাদের কাছ থেকে জমি ফেরত চায় তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজি হয় টাটা। কিন্তু জমি ফেরানো বাবদ খরচও দাবি করে বসে রাজ্য সরকারের কাছে। শুধু তাই নয়, এই খরচের মধ্যে ছিল টাটার বিনিয়োগ করা অর্থও। বেঁকে বসে রাজ্য সরকার। মামলা গড়ায় আদালতে। আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকারকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যত দিন না তা আদায় হচ্ছে, তত দিন ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। পাশাপাশি দিতে হবে মামলার খরচ বাবদ ১ কোটি টাকা।

    সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে রাজ্য সরকার। পরে সেই মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। যদিও শীর্ষ আদালত পরে সেই মামলা ফের কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠায়। সেই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার তারই রায় ঘোষণা করবে আদালত। আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ বহাল থাকলে শপথ নেওয়ার আগেই বিপুল টাকার বোঝা চাপবে নতুন সরকারের ঘাড়ে। এখন আদালত কী রায় দেয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

  • Link to this news (এই সময়)