আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটে লড়তে পারবেন কিনা তাই জানতেন না মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মাহাতাব শেখ। রাজ্যে প্রথম দফায় বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদম শেষ দিন কোনওক্রমে মনোনয়নপত্র জমা করতে পেরেছিলেন মাহাতাব। অথচ সমস্ত বাধা–বিপত্তি টপকে তিনিই এবার বিজয়ী।
৮১৯৩ ভোটে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে মাহাতাব তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিজেপির সুনীল চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন।
এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র সব অর্থেই যথেষ্টই আকর্ষণীয় ছিল। ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে তাঁর দল টিকিট দেয়নি। পরিবর্তে সামশেরগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে তাঁর আসন পরিবর্তন করিয়ে ফরাক্কা বিধানসভায় লড়তে পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে আমিরুল তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন। ভোট যুদ্ধ শুরুর আগে অনেকেই মনে করেছিলেন ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে মূল লড়াই হবে ‘ভূমিপুত্র’ তথা কংগ্রেস প্রার্থী মাহাতাব শেখের সঙ্গে ‘বহিরাগত’ তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলামের। তবে রাজ্য জুড়ে বয়ে যাওয়া গেরুয়া ঝড়ে এবার আমিরুল তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছেন ফরাক্কায়। বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করে একদা কংগ্রেস ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলায় দলের মান রক্ষা করেছেন মাহাতাব। ২২ আসন বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায়, এবার কংগ্রেস দল মাত্র দু’টি আসন পেয়েছে–ফরাক্কা এবং রাণীনগর।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তাতে ভোটার তালিকা থেকে মাহাতাব শেখের নাম বাদ পড়ে যায়। অথচ কংগ্রেস দলের তরফ থেকে তাঁর নাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকায় মাহাতাবের নাম না থাকায় জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব নিশ্চিত ছিলেন না তাঁর পক্ষে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা। সেই কারণে কংগ্রেসের তরফ থেকে বিকল্প প্রার্থীও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
যদিও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতেই মাহাতাব কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে নিজের আবেদন নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে জরুরী ভিত্তিতে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়েছিল। মাহাতাব শেখ ছিলেন রাজ্যের প্রথম ভোটার যাঁর নাম নির্বাচনী ট্রাইবুনাল থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ পেয়ে ভোটার তালিকায় উঠেছিল।
ফরাক্কা বিধানসভার নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে সেখানকার ২৪১ টি বুথের অনেকগুলোতেই কংগ্রেস তাদের এজেন্ট বসাতে পারেনি। তারপরেও মাহাতাব ৬৩,০৫০টি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিজেপির সুনীল চৌধুরী পেয়েছেন ৫৪,৮৫৭ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের আমিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৭,২৫৬ ভোট এবং সিপিএম প্রার্থী মোজাফফর হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৪,১৭৭ ভোট।
গত লোকসভা নির্বাচনে মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪০,৫৩৩ ভোটে এগিয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। বিধানসভা নির্বাচনেও ফরাক্কা কেন্দ্রে সেই একই ফলাফল হল। কংগ্রেস এখানে প্রথম স্থানে এবং দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল বিজেপি।
সীমিত সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে কংগ্রেসের এই জয়কে আসলে ফরাক্কাবাসীরই জয় বলে তাঁদেরকেই এই জয় উৎসর্গ করেছেন মাহাতাব শেখ। তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল বাদ দিলে তার আগের ২৫ বছর ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী জয়ী হতেন। এই এলাকার মানুষ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফরাক্কা বিধানসভার প্রচুর মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন করার পর মাত্র ১ জনের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে। সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় থাকলে আমার জয়ের ব্যাবধান আরও বেশি হতো।’