দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ফের পালাবদল ঘটেছে। এরপরেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের গলি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গার্ডরেল। এমনকী প্রথমে ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়, পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে সরানো হয়েছে নিরাপত্তা। এতদিন নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকত যে শান্তিনিকেতন, এখন সেখানে পড়ে শুধুই ফাঁকা চেয়ার। রয়েছে কয়েকজন মাত্র পুলিশকর্মী। হঠাৎ এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তাকে তুলে আইনশৃঙ্খলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভোট মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসার কারণেই মৃত্যু বলে অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আজ, বুধবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানীভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা। সেখানেই নিরাপত্তা কমানো নিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মমতা এবং অভিষেকের যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা তাঁরা পাচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত বেশ বাহিনীকে প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তাই বজায় থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের জন্য। শুধুমাত্র অতিরিক্ত বাহিনীকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানান, ইতিমধ্যে ২০০টি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি। শুধু তাই নয়, বুলডোজার এবং জেসিবি ব্যবহার নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কখনও বুলডোজার এবং জেসিবি ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বলে রাখা প্রয়োজন, এই বিষয়ে এদিন সকালেই কড়া বার্তা দিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। এমনকী যারা এই সমস্ত জেসিবি ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।