শনিবার নতুন সরকারের শপথে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি ব্রিগেডে, পুলিশের সঙ্গে আধা সেনাও
প্রতিদিন | ০৭ মে ২০২৬
আর মাত্র দু’দিন। তারপরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতা যাবে বিজেপির হাতে। শনিবার ঐতিহাসিক ব্রিগেডে বঙ্গে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ। উপস্থিত থাকবেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ সহ বিজেপির একঝাঁক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সাজো সাজো রব ব্রিগেডে। চলছে জোরকদমে প্রস্তুতিও। কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে ব্রিগেড ময়দানকে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথকে কেন্দ্র করে ব্রিগেডে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে পুলিশ। এনিয়ে বুধবার লালবাজারের কর্তারা বৈঠকও করেন। সূত্রের খবর, ব্রিগেডের নিরাপত্তার জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে প্রায় চার হাজার পুলিশ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট করার লক্ষ্যে গোটা ব্রিগেডকে ভাগ করা হয়েছে ৩০টি সেক্টরে। প্রত্যেকটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকছেন একজন করে ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন একাধিক ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কয়েকজন করে কনস্টেবল। এছাড়াও প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হতে পারে ব্রিগেডে। পুরো ব্রিগেডের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্তারা।
সূত্রের খবর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। এছাড়াও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, অসম-সহ বেশ কয়েকটি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। ফলে নিরাপত্তায় পুরো বাহিনীর বিশেষ নজর থাকবে মূলমঞ্চের দিকে। ব্রিগেডে বসানো হবে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর ও পুলিশকর্মীদের হাতে থাকবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর। কেউ যাতে ব্রিগেডে বেআইনি অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে না পারে, তার বিশেষ চেকিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়দানের আশপাশের একাধিক বহুতলের ছাদ থেকে বাইনোকুলার নিয়ে চলবে কড়া নজরদারি। ব্রিগেডের গোটা এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভির ক্যামেরা বসানো হবে। কোন কোন জায়গায় গাড়ি পার্ক করা হবে, সেই ব্যাপারেও পুলিশ নির্দেশিকা জারি করবে। এছাড়াও শনিবার ব্রিগেড সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে যানজট এড়াতে প্রয়োজনমতো অন্য রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।