চার বছরের শিশুকে নৃশংস ভাবে ধর্ষণের পরে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এই নারকীয় ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ বার প্রকাশ্যেই অভিযুক্তকে পিষে মারার দাবি করলেন তাঁর পরিবার। বুধবার বৃদ্ধের স্ত্রী বলেন, ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। দেহও আমাদের ফেরত দেওয়ার দরকার নেই।’
এ দিন অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে থানে পুরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান শিবসেনার (শিন্ডে শিবির) মহিলা কর্মী-সমর্থকরা। অভিযুক্তর কুশপুতুল দাহ করেন তাঁরা। অন্য দিকে এই ঘটনায় বৃদ্ধের স্ত্রী জানিয়েছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকেই আলাদা থাকত। আমি চাই, যেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে, সেখানেই ওকে পিষে মারা হোক।’
রাগে ফুঁসছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি চান, যে ভাবে হোক যেন তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযুক্তের স্ত্রীর কথায়, ‘ওকে ফাঁসি দিক। জীবন্ত পুড়িয়ে মারুক। তবু আমার রাগ কমবে না।’ এখানেই শেষ নয়। রীতিমতো রাগের সঙ্গে বলে দেন, ‘আমি ওর শেষকৃত্যেও যাব না। কেউ যেন আমাকে খবর দিতেও না আসে।’
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ ও ২০১৫ সালে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। সেই নিয়ে মামলাও হয়। পরে অবশ্য ছাড়া পেয়ে যান তিনি। অভিযুক্তের এক ছেলে। তিনি বৃদ্ধকে বাবা বলে স্বীকার করতেও রাজি নন। সরাসরি বললেন, ‘ওকে আমার বাবা বলতে লজ্জা করছে। অমানবিক কাজের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ নির্যাতিতা নিজের ভাইঝির মতো দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার ১১ জন ভাইঝি আছে। ঘটনাটা শোনার পর থেকে তাদের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।’
পুলিশের দাবি, গত ১ মে চার বছরের শিশুটিকে গোয়াল ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন ওই বৃদ্ধ। তার পরে পাথর দিয়ে আঘাত করে তাকে প্রাণে মেরে ফেলে। শেষে প্রমাণ লোপাট করতে শিশুটির নিথর দেহ গোয়ালঘরেই লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। রেকর্ড সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতের বাবা। সোজাসুজি বলেন, ‘যতদিন না মেয়ের ন্যায়বিচার পাচ্ছি, কোনও রাজনৈতিক নেতা আমাদের বাড়িতে আসবেন না।’