• ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
    আনন্দবাজার | ০৭ মে ২০২৬
  • লালবাজারের পর এ বার বুলডোজার নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রাখল ভবানী ভবনও। জানিয়ে দেওয়া হল, বুলডোজ়ার নিয়ে কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কিছুলোক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভোট-পরবর্তীঅশান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বুধবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে কয়েক জায়গায় গোলমাল হয়েছে। মঙ্গলবারও হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে কোথাও কোনও গোলমালের ঘটনা ঘটে নি। সিদ্ধনাথ জানান, ভোট-পরবর্তী সময়ে মোট ২০০টি এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

    তৃণমূল নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বুধবার ব্যাখ্যা করে দেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী মমতা এবং অভিষেকের যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা তাঁরা পাচ্ছেন। তবে এর বাইরেও অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তাঁদের জন্য। সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান সিদ্ধনাথ।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। রাজ্যবাসীকে আইন নিজেদের হাতে না তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশপ্রধান সিদ্ধনাথ। রাজ্যের সাধারণ জনতার উদ্দেশে তিনিবলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, সেটি থানায় জানান। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।” বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ ভয়ে থানায় গিয়ে এফআইআর করতে না পারলে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর রুজু করবে, সেই আশ্বাসও দেন তিনি।

    ভোট-পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও পুলিশকে পর্যাপ্ত সাহায্য করছে বলে জানান রাজ্য পুলিশের ডিজি। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী সব জায়গায় পর্যাপ্ত সাহায্য করছে। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর জন্য রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। রাজ্য স্তরে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য যৌথ কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। জেলা স্তরেও এমন যৌথ কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)