‘বন্দে মাতরম্’ গানকে অপমান করলে হবে জেল! পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর সিদ্ধান্ত মোদীর মন্ত্রিসভার
আনন্দবাজার | ০৬ মে ২০২৬
কিছু দিন আগের কথা। মিজ়োরামের কিশোরী এস্থার নামতের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সে ছিল গানটির আগের সংক্ষিপ্ত রূপ। তার পর স্কুল থেকে সরকারি অনুষ্ঠান, দেশে সর্বত্র ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি পুরো গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু আপত্তি ওঠে দেশের উত্তর-পূর্বের। আপত্তির কারণ, ‘তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম/তুমি হৃদি তুমি মর্ম’, অথবা ‘তোমার প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে’-এর মতো অংশগুলি। একে তো সেখানে বেশ কিছু লাইন রয়েছে বাংলায়। তার উপরে সেই সব লাইনে মন্দির গড়া, দেবী বন্দনার উপস্থিতিতে বিরক্ত জনজাতি এবং খ্রিস্টানপ্রধান রাজ্যগুলি। তবে সম্প্রতি মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘বন্দে মাতরম্’-কে অপমান করলে কারাবাস হবে।
মঙ্গলবার, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় গীতের অপমান বরদাস্ত করা হবে না।
জানা যাচ্ছে, মোদীর মন্ত্রিসভা ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আইনের ৩ নম্বর ধারা সংশোধনের ফলে ‘সাহিত্যসম্রাট’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য মর্যাদা লাভ করবে।
বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেরই বিধান আইনে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বা সংবিধানের অবমাননার জন্যও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে।
এখন আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
২০০৫ সালে গেরুয়া, সাদা, সবুজ— এই তেরঙ্গার অসম্মানজনক ব্যবহার, যেমন— কোমরের নীচে পরিধান করা কিংবা রুমাল, বালিশ ইত্যাদিতে ছাপানো নিষিদ্ধ করার জন্য আইনটি সংশোধন করা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বরে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সংসদে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা দেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হয়। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছ’টি স্তবক বাধ্যতামূলক ভাবে গাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রথম বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইতিহাস তৈরি করেছে বিজেপি। ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিন মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎপর্যপূর্ণ’।