• মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলিতে ঝাঁজরা, মৃত্যু হাসপাতালের পথে
    প্রতিদিন | ০৭ মে ২০২৬
  • বুধবারই ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে ২০২১ এবং ২০২৩ এর উদাহরণ টেনে তৃণমূলকে তোপ দাগেন হবু বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেদিন রাতেই মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ গাড়ির মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলেন। তাঁর পেটে-বুকে ও মাথায় গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও।

    মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় হামলা হয় চন্দ্রনাথের উপরে। বাইকে করে এসে দুই দুষ্কৃতী পথ আটকায় শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের গাড়িটির। এর পরেই এলোপাথাড়ি গুলি করে পালায় তারা। বাইকটিতে নম্বর প্লেট ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। চন্দ্রনাথের বুকে-পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। হামলায় আহত হন গাড়ির চালকও। তড়িঘড়ি শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে মধ্যমগ্রামের ভিভা সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও চিকিৎসকরা জানান ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ গাড়িচালককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর।

    আদতে মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের মানুষ হলেও দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামেই থাকছিলেন চন্দ্রনাথ। এদিন সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ বিধানসভায় যান তিনি। সেখান থেকে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময়েই গাড়ি আটকে সামনে থেকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ভিভা সিটি হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ রথের দুটি গুলি লেগেছিল বুকে, হৃদপিণ্ড ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল সেগুলি। হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছিল। চন্দ্রনাথের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরে জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী বলেন, “ঘটনার পরিনাম তৃণমূলকে ভুগতে হবে। পুরোটা মমতা-অভিষেকের নির্দেশে হয়েছে। যতক্ষণ না দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, দেহ দাহ করব না।”

    ভিভা সিটি হাসপাতলের সামনে জরো হয়েছেন অসংখ্য বিজেপি কর্মী সমর্থক। সেখানে পৌঁছেছেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, শঙ্কর ঘোষ, পীযূষ কানোরিয়া, কৌস্তভ বাগচী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বিজেপি নেতারা। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি করেছেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে খুন করেছে। এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের কার্টিজ। আরও জানান, দুষ্কৃতীদের বাইকটিতে শিলিগুড়ির নম্বর প্লেট ছিল। যা আদতে ভুয়ো। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এদিকে রাজ্যের একাধিক অঞ্চল থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার খবর আসছে। যে রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করে খুন করা হল, সেদিনই বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ হলেন এক বিজেপি কর্মী। অন্যদিকে পানিহাটির দু’নম্বর ওয়ার্ডে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের খবর মিলেছে। পরপর তিনটে বোম চার্জ করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় ৬-৭ জন জখম হয়েছেন। গোটা অঞ্চল ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানরা। আতঙ্কে এলাকাবাসী।  
  • Link to this news (প্রতিদিন)