অনিল চোপড়া (অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল)
২০২৫-এর ৬-৭ মে রাতে ভারত অপারেশন সিঁদুরের সূচনা করেছিল। পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার এ ছিল এক সুপরিকল্পিত ও সময় নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান। ৮৮ ঘণ্টার এই অভিযান নতুন কৌশলগত সামরিক প্রদর্শন। যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজির গড়েছে। ভারতকে এই প্রথম একই যুদ্ধে দুটি দেশের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। সক্রিয়ভাবে উপগ্রহ-ভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, বৈদ্যুতিন যুদ্ধ সহায়তা, সাইবার সহায়তা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সহ সামরিক সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও যৌথ শক্তিকে পর্যুদস্ত করেছে ভারত।
রাশিয়া-ইউক্রেন সহ পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবিস্তৃত সংঘাতের বড় ব্যর্থতা হলো যুদ্ধ থেকে সঠিক সময়ে বেরিয়ে আসার কৌশল না জানা। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে সেই সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। কারণ যুদ্ধের আগেই ভারত সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে ফেলেছিল। লক্ষ্য ছিল, জঙ্গি পরিকাঠামো ও তাদের মদতদাতাদের নিষ্ক্রিয় করা, শত্রুপক্ষের ক্ষতিসাধন করা ও অসামরিক এলাকায় ক্ষতিসাধন না করে নিজের শর্তে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা। ফলে ভারতের এই অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি ও সামরিক পরিকাঠামোর ক্ষতি হলেও দেশে তার কোনও প্রভাবই পড়েনি। যা নজির। অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য সমন্বয়, আত্মনির্ভরতা ও দেশীয়করণ উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে মাধ্যমে পাক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে করে দেয় ভারত। ভারত সংযম দেখালে সেটা দুর্বলতা বলে ভাবা হতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পরে চিত্র বদলে গিয়েছে। এই অভিযানে সামরিক বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী বিনা শর্তে কাজ করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। ভারত দেখিয়ে দিয়েছে, পারমাণবিক হুমকি সন্ত্রাসে মদতের ঢাল হতে পারে না। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি।
ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বেড়েছে। তাই অপারেশন সিঁদুর 'মেড ফর ইন্ডিয়া' থেকে 'মেড বাই ইন্ডিয়া'র দিকে এক নির্ণায়ক পদক্ষেপ। যদিও যুদ্ধবিমানের সংখ্যা, AEW&C এবং ফ্লাইট রিফুয়েলিং-এর পরিসর, ড্রোন ও অন্য গতিশীল অস্ত্রশস্ত্রের সম্ভার ও প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়াতে হবে। প্রতিরক্ষা বাজেটকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে জিডিপি-র ৩ শতাংশে নিয়ে যাওয়া দরকার। হাইপারসনিক BrahMos II, AMCA পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি Harop শ্রেণির ড্রোনের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
(সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারার্স-এর উপদেষ্টা)