এই সময়, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর মহকুমায় ১২টি বিধানসভার মধ্যে শিবরাত্রির সলতের মতো কেবল কামারহাটি তৃণমূলের দখলে।বাকি সব কেন্দ্রেই ধরাশায়ী তৃণমূল। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন রুপোলি পর্দার তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। রাজ পরাজিত হতেই মুখ খুলেছেন দলের একের পর এক নেতা। তৃণমূল পরিচালিত ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস রাজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
উত্তমের অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে রাজনীতি নয়, এলাকায় ‘সিনেমাতে লোক ঢোকানোর ব্যবসা’ চালিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। তারকা প্রার্থী এ বার বিজেপির কৌস্তভ বাগচির কাছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। হারের মার্জিন তুলে ধরে উত্তম বলেন, ‘পলিটিক্সের সঙ্গে সিনেমা গুলিয়ে ফেলেছিলেন রাজ। উনি এখানে সিনেমা করতে এসেছিলেন। খালি টাকা নিয়ে একে ঢোকাব, ওকে ঢোকাব, এই এমএলএ–কে ঢোকাব, ওই এমপিকে ঢোকাব! এই জন্যই দলের বিপর্যয়।’ দলের পুরোনো কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। উত্তমের দাবি, ‘১৯৯৮ সাল থেকে যারা দল করছে, তাদের বেশিরভাগ বঞ্চিত। আর ২০১৯-’২০–তে যারা এসেছে, তারাই নেতৃত্ব দেবে, এটা মানুষ মেনে নেয়নি।’ ব্যারাকপুরের প্রাক্তন তারকা বিধায়ককে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে উত্তম বলেন, ‘ও রাজনৈতিক লোক নয়। ধান্দা করতে এসেছিল। মানুষ সেটা মেনে নেয়নি।’
টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা প্রশান্ত চৌধুরীও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ওকে প্রার্থী করে ব্যারাকপুরে পাঠিয়েছিলেন, আমরাই ওকে জিতিয়ে এনেছিলাম। ভোটে জেতার পর আমার মতো পুরোনো কর্মীদের ভুলে গিয়েছিল রাজ। ন্যূনতম সম্মানটুকুও দিত না। দলকে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু লাভ হয়নি। এ বারও আমাদের অন্ধকারে রেখে নিজের ইচ্ছেমত কাজ করেছে ও। তার ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালে রাজের ইন্ধনেই তাঁকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে রাজ চক্রবর্তীকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।