• Chandranath Rath Murder CCTV Footage: দীর্ঘদিন ধরে রেইকি-র পর হামলা, শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের খুনের তদন্তে STF, CID এবং IB-র সিট
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • বিজেপি সরকারের শপথ নেওয়ার কমবেশি ৫২ ঘণ্টা আগে বাংলায় নৃশংস খুন। বুধবার রাত ১০টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় কাছে ক্লোজ রেঞ্জ থেকে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে খুন করা হয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। চার চাকার গাড়ি ও বাইকে চেপে এসে চন্দ্রনাথের স্করপিও আটকায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে একের পর এক গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বায়ুসেনার প্রাক্তন জওয়ান চন্দ্রনাথ রথের। গুরুতর আহত তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও CID। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের খুনের তদন্তের জন্য STF, CID এবং IB-কে নিয়ে গড়া হয়েছে SIT। ঘটনায় ভিনরাজ্যের যোগ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘ দিন ধরে রেইকি করে নিখুঁত ছক কষে অপারেশন চালিয়েছে আততায়ীরা। কমবেশি এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ-এর গতিবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশের সন্দেহ। কোন রাস্তা দিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন, কোন গাড়ি চড়েন, গাড়িতে কোথায় বসেন চন্দ্রনাথ রথ, সবই নজরল করেছিল আততায়ীরা। তাই চোখের পলকে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি ছুড়ে পালাতে পারে আততায়ীরা।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার সকালে যান CID আধিকারিকরা। আততায়ীরা কোন রাস্তা দিয়ে এসেছিলেন ও কোন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়, তা জানতে শুধু ঘটনাস্থল নয়, যশোর রোড, মধ্যমগ্রাম ও লাগোয়া অঞ্চলের সিসিটিভি-র ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

    কলকাতা পুলিশ এলাকায় যে যে রাস্তা দিয়ে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ি গিয়েছিল সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা নিজে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হামলায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট বদলে ফেলা হয়েছিল। মুছে ফেলা হয়েছিল চেসিস নম্বরও।

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে চন্দ্রনাথ রথের খুনিরা এসেছিলেন ভিন রাজ্য থেকে। সুপারি দিয়ে আনা হয়েছিল শার্প শুটার। অত্যন্ত উচ্চ মানের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা।

    জানা গিয়েছে, এ দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে করে চন্দ্রনাথ কলকাতার দিক থেকে মধ্যমগ্রামে যাচ্ছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঠিক কী ভাবে দুষ্কৃতীরা হামলা চালাল, তা নিয়ে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসছে।

    একটি সূত্রের দাবি, মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন দোহারিয়ার কাছে পুরোপুরি ফিল্মি কায়দায় চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড় করায় দুষ্কৃতীরা। তারপরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। চার চাকার গাড়ি ও চারটি মোটরবাইকে অন্তত আট জন দুষ্কৃতী অকুস্থলে এসেছিল। পরপর গুলি চালিয়েই তারা সেখান থেকে পালায়। বাইকের নম্বর প্লেট ছিল না। দুষ্কৃতীদের মাথা হেলমেটে ঢাকা ছিল, যাতে তাদের চেনা না যায়।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চারটি বাইকের মধ্যে এক বা একাধিক বাইক গাড়িটির সামনে এসে সেটিকে আটকায়। অন্য একটি বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চালকের বাঁ দিকের সিটে বসেছিলেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)