পাঞ্জাবে বিএসএফ-সেনা ছাউনির বাইরে জোড়া বিস্ফোরণ, আতঙ্ক, শুরু আপ-বিজেপির চাপানউতোর
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার রাত ৮টা। জলন্ধরে বিএসএফের পাঞ্জাব ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরের বাইরে রাখা একটি স্কুটারে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটি এবং নিকটবর্তী একটি দোকানের জানালার কাচ ভেঙে যায়। আশপাশে থাকা একাধিক গাড়ি, মোটরবাইকেও আগুন ধরে যায়। অর্থাৎ ঠিক যা ঘটেছিল দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে। এর ঠিক ২ ঘণ্টা পর জলন্ধর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের আর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর অমৃতসরে আটারি রোডের আর্মি খাসা ক্যাম্পের বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। আর্মি ক্যাম্পের প্রাচীরের গায়ে রাখা ছিল কোনো বিস্ফোরক। সেটিও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। সিসিটিভিতে মুখোশ পরা কয়েকজনকে ওই জায়গা দিয়ে ঘুরে যেতে দেখা দিয়েছে। দু’টি ঘটনাতেই কেউ হতাহত হয়নি। পাঞ্জাব পুলিশের সন্দেহ এই বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে পাকিস্তান। পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, জলন্ধরের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে খালিস্তান লিবারেশন আর্মি (কেএলএফ)। তবে সেই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে এনআইএ-র বিশেষ টিম চলে গিয়েছে জলন্ধর ও অমৃতসরে।
আগামী বছর পাঞ্জাবে ভোট। এবং সেজন্য রাজনৈতিক উত্তাপ এখন থেকেই তুঙ্গে। আচমকা পাঞ্জাব থেকে নির্বাচিত আম আদমি পার্টির একঝাঁক এমপিকে দলে টেনে নিয়ে এক বছর আগেই ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বাংলা দখলের পর এবার নরেন্দ্র মোদির দলের টার্গেট পাঞ্জাব। কারণ, আগামী বছর ছ’টি রাজ্যে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে একমাত্র পাঞ্জাবে বিজেপি সরকার নেই। সুতরাং তা নিয়ে এখন থেকেই বিজেপিতে সাজ সাজ রব। আর তারই মধ্যে আচমকা পাঞ্জাবে একের পর এক বিস্ফোরণ। তাও আবার বিএসএফ ও আর্মি ক্যাম্পের বাইরে। বিস্ফোরণ দু’টি সন্ত্রাসবাদী হামলা কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তা চলছে রাজনীতির চাপানউতোর। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগওয়ন্ত সিং মান বলেছেন, ‘এই বিস্ফোরণ আসলে বিজেপির অপারেশন। পাঞ্জাবে আইনশৃঙ্খলা নেই এই প্রচার করার জন্য ভোটের আগে ছোটোমাপের এই বিস্ফোরণ করানো হয়েছে।’ পালটা বিজেপির দাবি, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে দেশবিরোধী কথা মানায় না। কারণ, খালিস্তানি একটি সংগঠন ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে যে, এটা তাদের কাজ।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জলন্ধরে পাঞ্জাব ফ্রন্টিয়ারের সামনে রাখা স্কুটারটিতে তীব্র বিস্ফোরণের পরই আগুন লেগে যায়। স্কুটারটি গুরপ্রীত সিং নামে এক ব্যক্তির। তিনি এলাকায় পার্সেল পৌঁছে দিতেন। সিসি ক্যামেরায় ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, স্কুটারটি দাঁড় করানো ছিল। গুরপ্রীত যখন সেটি নিতে যাচ্ছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। অমৃতসরের ঘটনায় ডিজিপি অবশ্য জানিয়েছেন, খাসায় সেনা ক্যান্টনমেন্টের প্রাচীরের দিকে কেউ বিস্ফোরক ছুড়ে দেয়। তাতে তীব্র বিস্ফোরণে ক্যান্টনমেন্টের বাইরের একটি টিনের ছাউনি ভেঙে পড়ে। ঘটনার পরেই ফরেন্সিক টিম গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে।