১০০ আসনে ভোট চুরি করেছে বিজেপি, মমতার পাশে দাঁড়াল কংগ্রেসও
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কমপক্ষে ১০০ আসনে ভোট চুরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই বুধবার মন্তব্য করল কংগ্রেস। যেসব আসনে এসআইআরের জেরে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার চেয়ে দুই প্রার্থীর জয়ের মার্জিন কম, সেসব আসনে পুনঃনির্বাচনের দাবি করল রাহুল গান্ধীর দল। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করা হল। সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ভোট হলে বিজেপি বাংলায় কোনোভাবেই ১৪০টির বেশি আসন পেত না বলেই দাবি করলেন এআইসিসি মুখপাত্র পবন খেরা। মোদি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট মজবুত করতে প্রয়োজনে রাহুল গান্ধী কলকাতায় গিয়ে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে শামিল হতে পারেন বলেই এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে।
পবন খেরা তিনি বলেন, ২৮ লক্ষ বৈধ ভোটারকে সন্দেহজনক বলে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার আগেই ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার গায়েব হয়েছে। ১০-১২ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে কোন মুখে নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন ভোটে জিতে গিয়েছেন? তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৫০ আসনে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা দুই প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের থেকে বেশি। ফলে ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত। এটি পরিকল্পিত কৌশল। পবন খেরার অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ভোট নয়। দখলদারি। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে খেলা শুরু করে কারসাজি করে বাংলায় বিজেপি জিতেছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়েছে ঠিকই। কিন্তু তাই বলে বিজেপি যেভাবে ভোট চুরি করে অন্তত ১০০ আসনে তৃণমূলকে হারিয়েছে, তার প্রতিবাদ করবই। পশ্চিমবঙ্গই প্রথম নয়। এর আগেও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, বিহার নির্বাচনেও এই নীতি প্রয়োগ করেছে বিজেপি। তা হল ভোটার কারসাজি। কারণ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পরই বিজেপি বুঝতে পেরেছে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাচ্যূত করতে প্রস্তুত। সেই কারণেই গণতান্ত্রিক পথ ছেড়ে ভোট চুরি এবং নির্বাচনী কারসাজিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। এসআইআরের নামে আসলে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।