সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ওড়িশা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ। বিগত দু’বছরে তিন বিজেপি শাসিত রাজ্য পেয়েছে বাজেটে বিশেষ প্যাকেজ। সরাসরি ‘আর্থিক প্যাকেজ’ আখ্যা দেওয়া না হলেও উদারহস্তে বাজেট উপহার দেওয়া হয়েছে এই রাজ্যগুলিকে। ১৯৭৭ সালের পর থেকে এই প্রথম ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলায়। আর তাই আশা এবং অপেক্ষা দুটোই শুরু হয়ে গিয়েছে—প্যাকেজের। সেই সম্ভাবনার কথা শোনাও যাচ্ছে দিল্লির দরবারে। কৌতূহল দানা বাঁধছে, পুরভোটের আগেই নির্বাচনি ইস্তাহার এবং বাজেটে বিশেষ উপহার—দুই-ই মিলবে কি?
চলতি বছরেই কলকাতা পুরসভা। তারপর রাজ্যের অন্য পুরসভা এবং কর্পোরেশন। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরবর্তী ভোটপর্ব শিয়রেই বলা যেতে পারে। এখানেই লাখ টাকার প্রশ্ন হল, পুরভোট কি নির্ধারিত সময়েই হবে? ততদিন অপেক্ষা করবে তো বিজেপি সরকার? পুরসভার মেয়াদ পাঁচ বছরের হলেও পশ্চিমবঙ্গ পুরসভা আইন ১৯৯৩ অনুযায়ী, কয়েকটি বিধান রয়েছে পুরসভা ভেঙে দেওয়ার। তবে সেই প্রক্রিয়াতেও বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট পুরবোর্ডকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিতে হবে। কারণ, সংবিধানের ২৪৩ ইউ ধারা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদে পুরবোর্ড গঠিত হয়। যদি তার আগে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলেও ছ’মাসের মধ্যে করতে হবে নির্বাচন। রাজ্য সরকারের অধিকারের পাশাপাশি বিধানসভায় বিশেষ প্রস্তাব এনে সংখ্যাগিরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমেও পুর প্রশাসনের মেয়াদ শেষ করা যেতে পারে। ততদিন পর্যন্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের অধীনে পুর প্রশাসন চলবে, যা কার্যত রাজ্য সরকারেরই হাতে বলা যায়। কিন্তু বিজেপি সরকার সেই পথ কি নেবে? নাকি যথাসময়েই পুর নির্বাচন হবে? বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, কোনো অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পদ্ধতি নেওয়া হবে না। কিন্তু পুরভোট এগনোর জল্পনার কারণ কী? বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, রাজ্য সরকারে বিজেপি এবং সিংহভাগ পুরসভায় তৃণমূল প্রশাসন থাকায় রাজনৈতিক ভারসাম্যের অভাব প্রকট হবে। আর তা প্রভাব ফেলতে পারে পুর পরিষেবা ও প্রশাসন পরিচালনায়। ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে। যদিও এখনই পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলি থেকে দলবদলের জোরালো বার্তা আসছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো বিলম্ব করতে চায় না। কারণ, আগামী বছর ছ’টি রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার সঙ্গে বাংলায় পুরভোট হলে সেটাও বাড়তি গুরুত্ব পাবে। তবে পুরভোট ইস্যুতে যে সিদ্ধান্তই হোক, পুরবোর্ডগুলির দুর্নীতি নিয়ে একটি বড়োসড় তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে অথবা প্রকৃত কোন খাতে গিয়েছে, সবই খতিয়ে দেখা হবে। আর সেই সূত্রে হবে শো-কজ। পুরবোর্ডগুলি ভেঙে দেওয়ার একটি প্রাক-পদক্ষেপ।