• কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসবেন কে? তিনটি নাম নিয়ে চলছে জল্পনা
    বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
  • তিরুবনন্তপুরম: দীর্ঘ এক দশক পর ফের কেরলমের ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। ১৪০টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসনে জিতেছে এই জোট। অন্যদিকে, সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন। বিপুল জয় পাওয়ার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছে কেরলমের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? কংগ্রেসের একাধিক নেতার নাম নিয়ে চর্চা চলছে। সূত্রের খবর, প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধীর মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ভি ডি সতীশন, কে সি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিতালা। কংগ্রেস হাইকমান্ডের তরফে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হলেও কর্মী-সমর্থকরা এখনই নিজেদের পছন্দের নেতাদের নাম নিয়ে প্রচার করতে শুরু করে দিয়েছেন। 

    মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে সকলের প্রথমে রয়েছেন ভি ডি সতীশন। গত পাঁচ বছর তিনিই ছিলেন বিরোধী দলনেতা। শুধু তাই নয়, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফের পরাজয়ের পরেও কংগ্রেসকে ভেঙে যেতে দেননি। বরং সময় নিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে মজবুত করেছেন। কংগ্রেসের প্রতি ভোটারদের বিশ্বাস যাতে ফেরে, তার দিকেও নজর দিয়েছিলেন তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে কেরলমে ২০টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পায় ইউডিএফ। গত বছর পুর নির্বাচন ও তিন বিধানসভা আসনে উপ নির্বাচনেও সতীশনের নেতৃত্বে ভালো ফল করেছিল কংগ্রেস জোট। শুধু নিজেদের গড় শক্তিশালী করা নয়, এলডিএফকে বিভিন্ন ইস্যুতে আক্রমণও করে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে সতীশনের দিকেই পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন অনেকে। 

    মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকেও বেছে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, বেণুগোপালের সঙ্গে রাহুল গান্ধী সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো। কংগ্রেসের ৬৩ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ৪৬ জনই বেণুগোপালকে সমর্থন করছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁকে ‘রিয়েল লিডার’ বলেও তুলে ধরতে শুরু করেছে কেরলম এবং দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের একাংশ। তবে, বেণুগোপাল বর্তমানে লোকসভার সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁকে ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। কংগ্রেসের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, এই বিষয়টি বেণুগোপালের বিপক্ষে যেতে পারে।

    ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছিলেন রমেশ চেন্নিতালা। তার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। রমেশও এবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কংগ্রেসের অন্যতম মুখ ছিলেন রমেশ। মোট ৬ বার বিধায়ক হয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাঁর পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তার দিকেই নজর এখন সকলের।
  • Link to this news (বর্তমান)