সংবাদদাতা, ইটাহার: পালাবদলের নির্বাচন। তবুও ইটাহারে ভোট বাড়ল না বিজেপির। উল্টে কমে গেল ৩৭৬। বিজেপির দাবি, এসআইআর এর পিছনে অন্যতম কারণ। তাছাড়া কংগ্রেস ইটাহারে বিজেপির জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাগ হয়েছে হিন্দু ভোট।
গত বিধনসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ইটাহারে ভোট পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ৬৭০টি। সেবার মূল প্রতিপক্ষ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। কিন্তু এবার চিত্রটা ছিল আলাদা। বিজেপি প্রার্থী সবিতা বর্মনের ঝুলিতে এসেছে ৭০ হাজার ২৯৪ ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৯৮ হাজার ১৭২ ভোট। তাই দুই দলের ভোটের ফারাক ২৭ হাজার ৮৭৮ টি।
তবে এবার তৃণমূল, বিজেপির পাশাপাশি ইটাহারে যুক্ত হয়েছে কংগ্রেস। ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট কাটাকাটি বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির ক্ষেত্রে। কারণ, ইটাহারে এবার কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন দু’বারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অমল আচার্য। তিনি জেলার পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু গত নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিট পাননি। এবার নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে টিকিট পান। স্বাভাবিকভাবে তিনি তৃণমূল ও বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছেন। অমল পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৫ ভোট। আর এখানে তৃণমূলের লিড ২৭ হাজার ৮৭৮টি। ফলে বিজেপি শিবিরের দাবি, হিন্দু ভোটের বিপুল অংশে থাবা বসিয়েছেন অমল।
অন্যদিকে, এসআইআর আবহে সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি কয়েক হাজার হিন্দু ভোটার বাদ পড়েছেন। যা অধিকাংশই বিজেপির ঝুলিতে যেত বলে মনে করছে দল। কারণ, মুসলিম অধ্যুষিত বুথে বিজেপির সংগঠন ছিল না বললেই চলে। বিজেপির দাবি, সংখ্যালঘুরা ইটাহারে বিজেপিকে সমর্থন করেননি। আবার হিন্দু ভোটারদের কিছু অংশ তৃণমূল ও কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী সবিতা বলেন, এখানে জয়ের মার্জিনের নিরিখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে কংগ্রেস ও এসআইআর আমার জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাল্টা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক বলেন, আমরা তৃণমূলের মতো আঞ্চলিক দল নই। কংগ্রেস জাতীয় দল বলে আমরা ভোটব্যাঙ্ক ধরে রেখেছি। কে, কী বলছে সেটা তাদের ব্যাপার।