সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় বালুরঘাট পেয়েছিল নতুন বিধায়ক। পাঁচ বছর বালুরঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু তারপরেই শাসকদলের প্রতি মোহভঙ্গ হয় বালুরঘাটবাসীর। ২০১৬ সালে সবুজ ঝড়েও এই আসনে নির্বাচিত হন আরএসপির প্রার্থী। ২০২১ সালেও বালুরঘাটে ছিলেন বিজেপির বিধায়ক। ফলে পরপর দু’বার শাসকদলের বিধায়ক পায়নি বালুরঘাটবাসী। থমকে গিয়েছিল উন্নয়ন। মেডিকেল কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সবেতেই বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ দীর্ঘদিনের।
এবার প্রথম শাসকদলের বিধায়ক পাচ্ছেন বালুরঘাটবাসী। ফলে বড়ো দায়িত্ব বিদ্যুৎ রায়ের কাঁধে। ১০ বছর পর শাসক দলের বিধায়ক পেয়ে উন্নয়ন নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন বাসিন্দারা। ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে বিদ্যুৎ জয়ী হয়ে জেলায় প্রার্থীদের মধ্যে জয়ের ব্যবধানে প্রথম হয়েছেন। তাই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর থেকেই রাজ্যের মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে। বিদ্যুত্ কি মন্ত্রিত্ব পাবেন? তাঁর বক্তব্য, বিপুল মার্জিনে জয়ী হয়েছি। মন্ত্রিত্ব নিয়ে কিছু বলব না। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য এলাকার উন্নয়ন করা। বালুরঘাটে মেডিকেল কলেজ গড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির বিষয়টি সবার প্রথমে দেখব।
শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ বর্তমানে বালুরঘাটের ঐতিহ্যশালী নাট্য মন্দিরের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। বালুরঘাট ল’ কলেজের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অন্যতম। একসময় বালুরঘাট জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের পদেও ছিলেন। শুধু তাই নয়,নয়ের দশক থেকে বিদ্যুৎ বালুরঘাট পুরসভার বিশেষ আইনি পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করছেন। তাই তাঁকে নিয়েই বেশি চর্চা।
বালুরঘাটের বাসিন্দা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিদ্যুতের মাথার উপর তাঁর হাত রয়েছে। তাই বিদ্যুতের মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে আশা দেখছেন বালুরঘাটের বাসিন্দারা। পাশাপাশি, জেলার পুরনো বিধায়ক তপনের বুধরাই টুডু ও গঙ্গারামপুরের সত্যেন রায় রয়েছেন। এদিকে কুশমণ্ডিতেও বিজেপির প্রার্থী জিতেছেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাট। ২০১৯ সাল থেকে বালুরঘাটে কার্যত বিজেপির ঝড়। সুকান্তর হাত ধরে রেল থেকে শুরু করে নানা উন্নয়ন দেখেছে বালুরঘাটবাসী। তাই পরপর ২০২১ এবং ’২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির উপরেই ভরসা করেছেন বালুরঘাটের বাসিন্দারা। এবছর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বালুরঘাট শহরে মুখ থুবড়ে পড়েছে দল। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিজেপির লিড। বালুরঘাটের বিশিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর বালুরঘাটে তেমন উন্নয়ন হয়নি। মেডিকেল কলেজ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বালুরঘাট থেকে মন্ত্রী হলে এই সমস্যা আর থাকবে না বলেই মনে করছি। • ঝালমুড়ির দোকানে বালুরঘাটের ভাবী বিধায়ক। - নিজস্ব চিত্র।