• শুভেন্দুর প্রতি কৃতজ্ঞতা দিলীপ ঘোষের
    বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দিনটা ছিল ২০২০সালের ১৯ডিসেম্বর। মেদিনীপুর শহরের কলেজ কলেজিয়েট মাঠে বিজেপির সভায় বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে মঞ্চে উঠেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতে পদ্ম-পতাকা তুলে দেন অমিত শাহ। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘জঙ্গলমহলের লাল মাটি আর পূর্ব মেদিনীপুরের বালু মাটি হাত মিলিয়েছে। এই সরকারের পতন অনিবার্য।’ তারপর অবশ্য কাঁসাই দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। সেবার বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭-এই থামতে হয়েছিল বিজেপিকে। বিভিন্ন কারণে দিলীপ ও শুভেন্দুর মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হয়। এবার বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লির নির্দেশে ফের কাছাকাছি আসেন শুভেন্দু ও দিলীপ। দুই নেতাই পরস্পরের মনোনয়ন জমার দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে, তারপরও দ্বিধায় ছিলেন মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের বিজেপি কর্মীরা। অবশেষে সেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করতে উদ্যোগী হলেন দিলীপবাবু। খড়্গপুর সহ গোটা বাংলায় বিজেপির বিপুল জয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিলেও সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপবাবু লেখেন, ‘দশ বছর আগে খড়্গপুর সদরে ৬ হাজার ভোটে জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ তা বেড়ে ৩০ হাজার ৫০০। খড়গপুরের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ, যাঁরা আমার উপর ভরসা রেখেছেন।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, নিতীন নবীন সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তারপরই লেখেন, ‘কৃতজ্ঞতা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কেও।’ 

    শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার রাতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে শুভেন্দুবাবুর ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী দু’বার মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছেন, তবে কি তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু বলেন, ‘অবশ্যই উনি যোগ্য। এর আগে মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। খুব ছোট থেকে রাজনীতি করছেন। সব প্রতিভাই ওঁর মধ্যে আছে।’ যদিও মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড নেবে বলে জানিয়েছেন দিলীপবাবু। সেই সিদ্ধান্ত যে চমকপ্রদ হতে চলেছে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপবাবু।

    দুই নেতার পারস্পরিক সৌজন্যে উচ্ছ্বসিত মেদিনীপুর-খড়্গপুরের বিজেপি কর্মীরা। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, একুশ সালে বিজেপি ৩ থেকে ৭৭ হয়েছিল দিলীপদার হাত ধরে। আর এবার ৭৭ থেকে ২০৭ হওয়ার পিছনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য তিনি অবশ্যই শুভেন্দু অধিকারী। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে আমাদের মেদিনীপুরের এই দুই নেতাকে এক হয়ে চলতে হবে। এটাই আমরা চাই। অরূপের সুরেই জেলা বিজেপির নেতা শুভজিৎ রায়, অভিষেক আগরওয়াল বলেন, দুই নেতাকে নিয়েই আমরা গর্বিত। একজন আমাদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখিয়েছেন। আর একজন সেই লড়াইতে চরম সাফল্য নিয়ে এসেছেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)