পার্টি অফিস দখল ও কর্মীদের মারধর নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ তৃণমূলের
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: পার্টি অফিস দখল ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নবদ্বীপ শহর তৃণমূল কংগ্রেস একটি স্মারকলিপি জমা দিল থানায়। বুধবার দুপুরে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা ও নবদ্বীপ শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা কাউন্সিলার সুজিত সাহার নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এদিন পুরসভার ২৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলারও উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই নবদ্বীপ শহরে তৃণমূলের বিভিন্ন পার্টি অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, গেরুয়া রং করা, বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দখল করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। নবদ্বীপের রেলগেট সংলগ্ন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয়, দণ্ডপাণিতলা ঘাট মোড়ের পার্টি অফিস সহ একাধিক ওয়ার্ডের দলীয় কার্যালয় এবং নবদ্বীপ বাস স্ট্যান্ড তৃণমূল শ্রমিক কংগ্রেস ইউনিয়ন অফিস আক্রান্ত। ব্লক তৃণমূলের সভাপতির বাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাড়ির সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিচ্ছে, ভয় দেখাচ্ছে। অনেক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ঘরছাড়া। নবদ্বীপ শহরের শান্তি বজায় রাখতে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
নবদ্বীপ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, বিজেপির শ্রুতিশেখর গোস্বামী বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচন ফলাফলের আগে তিনি তার ব্যক্তিগত সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বিজেপির কার্যকর্তাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করেছিলেন, কোনো বিরোধী কর্মীদের ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন যেন না হয়। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম নির্বাচনের ফাইনাল ফলাফল বেরোনোর আগেই নবদ্বীপ শহরে তৃণমূলের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর করা, দখল করা, অগ্নিসংযোগ করা হল। বিজেপির পতাকা লাগানো হল। বিগত ২৫ বছর ধরে নবদ্বীপে শান্তির বাতাবরণ রয়েছে। আমরা আজকে নবদ্বীপ পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলার, নবদ্বীপ থানার আইসির কাছে লিখিতভাবে জানালাম। যদিও একটি-দু’টি ওয়ার্ডে বিধায়কের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গেরুয়া রং আবার সাদা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পরেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়গুলো দখল করে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের তৃণমূলের অনেক কর্মী ঘরছাড়া। পুলিশকে বলেছি বিষয়টি তদন্ত করুন। সুজিত আরও বলেন, বিধায়ক যা বলছেন তার সঙ্গে কাজের মিল হচ্ছে না। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিজেপি। তৃণমূল যখন ক্ষমতা এসেছিল তারা কি কোনো দলীয় কার্যালয়ে এইভাবে রং করে দিয়েছিল? এই কালচারে আমরা অভ্যস্ত নই। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রশাসক অদল বদল হয়। এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার করেছে এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু ২০০১ সালে আমাদের প্রাক্তন বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা নির্বাচিত হওয়ার পর এইরকম দখলের দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ বিধানসভায় ঘটেনি। আমিও বর্তমান বিধায়ককে অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিধায়কের কাছে প্রার্থনা করব, আপনি নবদ্বীপের মানুষের বিধায়ক, আমাদের বিধায়ক। এই সন্ত্রাস যাতে বন্ধ হয়, তা দেখুন। বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী তথা স্থানীয় বাসিন্দা অপর্ণা নন্দী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি তাঁর মতামত সোশ্যাল মিডিয়া, প্রেস মিডিয়ায় ব্যক্ত করেছেন। এখানে আমাদের বার্তা খুব স্পষ্ট, কোনোরকম জোর জবরদস্তি করে কোনো তৃণমূল পার্টি অফিস আমরা নেব না। তৃণমূলের কোনো কার্যকর্তা, কর্মী সমর্থককে আমরা হেনস্তা করব না। এই ধরনের ঘটনা কেউ যদি ঘটিয়ে থাকে তবে আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।