ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া প্রশাসন, বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার ৬০
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে ৬০জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাঁকুড়া পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বাড়ি বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে ওই ৬০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিককে নিয়ে বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত ও পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এদিন বেলা ১১টা নাগাদ জেলা কালেক্টরেটের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক বলেন, বাঁকুড়ায় ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ ছিল। ভোটের পরেও যাতে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে, তারজন্য আমরা কড়া নজরদারি চালাচ্ছি।
পুলিশ সুপার বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর মোটের উপর বাঁকুড়া শান্তি রয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু গণ্ডগোল ছাড়া জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। তবে হিংসা ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আমরা ৬০জনকে গ্রেপ্তার করেছি। ধৃতদের বেশিরভাগেরই বাড়ি পাত্রসায়র, সোনামুখী থানা এলাকায়।
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায় ছোটোখাটো হিংসার ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলিকে টার্গেট করা হয়। তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সামনে তারস্বরে ডিজে বাজানোর অভিযোগ ওঠে। ওইসব ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্ব পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। তবে বিজেপি-র তরফে বারবার হিংসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। হিংসার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রং না দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও গেরুয়া শিবিরের তরফে তোলা হয়েছে। তবে তাতেও তৃণমূলের নেতানেত্রীরা ভরসা পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। অনেকেই গত দু’দিন ধরে নিজেদের গৃহবন্দি রেখেছেন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় আপাতত ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। উপরমহল থেকে হিংসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশের কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশও স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বহু জায়গায় আমাদের দলের এজেন্ট, বুথস্তরের নেতাকর্মীদের জরিমানা করা হচ্ছে। টাকা না দিলে বাড়িছাড়া করা হচ্ছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ শোনা হচ্ছে না। আক্রান্ত হওয়ার পর তৃণমূল নেতাকর্মীরা থানায় যেতেও ভয় পাচ্ছেন। এভাবে চললে পুলিশের উপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে যেতে পারে।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এতদিন তৃণমূল নেতারা পুলিশকে দলদাস করে রেখেছিলেন। পরিবর্তনের পর পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। পুলিশের নিরপেক্ষতা তৃণমূল নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছে না। তবে তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবেন, ততই মঙ্গল। কিছু জায়গায় তৃণমূলের বঞ্চিত কর্মীরা রসেবসে থাকা শাসক দলের নেতানেত্রীদের সবক শেখাচ্ছেন। তবে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না।