বিজেপির পতাকা নিয়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙল দুষ্কৃতীরা, ধৃত ৫
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, লালবাগ: মঙ্গলবার রাতে জিয়াগঞ্জ শহরের শ্রীপৎ সিং কলেজ মোড়ে লেনিনের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপির পতাকা নিয়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সিপিএমের তরফে জিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সিপিএম এঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জেলা পুলিশ সুপার শচীন মাক্কার বলেন, এই ঘটনায় ওইদিন রাতেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
২০০৬সালে জিয়াগঞ্জ শ্রীপৎ সিং কলেজ মোড়ে লেনিনের মূর্তি স্থাপিত হয়। তারপর থেকে সেটি জিয়াগঞ্জ শহরের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠেছিল। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠে। এরপর মঙ্গলবার রাতে একদল দুষ্কৃতী কলেজ মোড়ে তাণ্ডব চালায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওইদিন রাত ৯টা নাগাদ দুষ্কৃতীরা কলেজ মোড়ে জমায়েত করে লেনিনের মূর্তি ভাঙতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে মূর্তি উপড়ে ফেলা হয়। খবর পেয়ে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সিপিএমের জিয়াগঞ্জ এরিয়া কমিটির তরফে থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ জানানোর পর সিপিএমের তরফে জিয়াগঞ্জ থানা থেকে শ্রীপৎ সিং কলেজ মোড় অবধি মিছিল করা হয়। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা, মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন সাংসদ বদরুদ্দোজা খান, নবগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক মুকুল মণ্ডল, জেলা পরিষদের দুই প্রাক্তন সভাধিপতি পূর্ণিমা দাস ও সচ্চিদানন্দ কান্ডারি সহ অন্য নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লেনিনের মূর্তি ভেঙেছে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, এখনো সরকার গঠন হয়নি। তার আগেই বিজেপির দুষ্কৃতীরা রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব শুরু করেছে। আগামী দিনে কী হতে চলেছে, সেটা আমরা সহজেই বুঝতে পারছি। জিয়াগঞ্জের ঘটনা একটি মতাদর্শের উপর আক্রমণ। আমরা এই ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, সবে তো শুরু। আগামী পাঁচবছর আরো কত ঘটনার সাক্ষী থাকতে হবে কে জানে?
অভিযোগ অস্বীকার করে মুর্শিদাবাদের বিজেপির জয়ী প্রার্থী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, বিজেপির ব্যাপক জয়ের পর বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল জোট বেঁধেছে। আমাদের দলকে কালিমালিপ্ত করতে ওদের দুষ্কৃতীরা বিজেপি সেজে রাজ্যজুড়ে দুষ্কর্ম চালাচ্ছে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলে সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
শহরের এক বাসিন্দা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জিয়াগঞ্জ শহরের ঐতিহ্য। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেটা পুলিশ নিশ্চিত করুক।