গেরুয়া ফেট্টি বেঁধে তাণ্ডব পশ্চিম মেদিনীপুরে ধৃত ১৬২, ওদের চিনি না, দাবি বিজেপির
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দল ও প্রশাসন কড়া হুঁশিয়াড়ি দিলেও দিকে দিকে অশান্তি অব্যাহত। কপালে গেরুয়া কাপড় বেঁধে চলছে আক্রমণ। দখল করা হচ্ছে তৃণমূলের কার্যালয়। ভাঙচুর ও আতঙ্ক ছড়ানো তো আছে। বিভিন্ন অভিযোগে ১৬২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে। জেলাজুড়ে পরিস্থিতি এখন থমথমে। আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলায় প্রায় ২৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না জেলার সাধারণ মানুষ।
এবারের নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর ছিল অন্যতম হাইভোল্টেজ জেলা। টানটান উত্তেজনা শেষে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, জেলায় কার্যত গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ আসনেই জয় হয়েছে বিজেপির। ২০২১ সালে জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল সেবার। এবার ছবিটা পুরোপুরি উলটো। জেলায় মাত্র দু’টি আসনে তৃণমূল জিততে পেরেছে। বাকি প্রায় পুরো জেলাই গেরুয়া শিবিরের দখলে চলে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, গ্রামাঞ্চলে বড়সড় মেরুকরণের জেরেই এমন ফল হয়েছে। তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তো আছেই।
বিজেপির বিপুল জয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই অশান্তি শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় গেরুয়া পতাকা নিয়ে জমায়েত, তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভায় তৃণমূল জয়ী হলেও সেখানে তাণ্ডবলীলা অব্যাহত। তৃণমূলের জয়ী বিধায়ক দীনেন রায় ইতিমধ্যে এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।
অশান্তি রুখতে রাতভর জেলার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলার প্রশাসনিক ভবনে জরুরি বৈঠকের পর জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সাংবাদিক বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। কোনোরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই ১৬২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। নির্বাচনে হারজিত তো থাকবেই। কিন্তু হিংসা কখনো মেদিনীপুরের সংস্কৃতি নয়। এটা সকলকে মনে রাখতে হবে। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, শান্তি বজায় রাখুন।
বিজেপির জয়ী প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলেন, মেদিনীপুরের মানুষ আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন। তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। ভোট শেষের পর এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। কেউ অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।