মতুয়াগড়ে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে কে মন্ত্রিসভায়! জল্পনা
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া দক্ষিণের মতুয়াগড়ে পদ্মফুলের জয়জয়কার। আসনগুলোতে বিপুল মার্জিনে বিজেপিকে জিতিয়ে ‘পদ্মগড়’ অক্ষুণ্ণ রেখেছেন মতুয়ারা। অন্যদিকে নদীয়া উত্তরের একাধিক আসনে তৃণমূলের পতন ঘটিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। সেই তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রী থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় বর্ষীয়ান নেতারা। বাংলাজুড়ে পরিবর্তনের এই মরশুমে নদীয়া জেলা থেকে নতুন সরকারে কে মন্ত্রিত্ব পেতে চলেছেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মশিবিরের উপর ভরসা রাখার ‘উপহার’ হিসেবে মতুয়াদের কি মন্ত্রিত্ব দেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলে। অন্যদিকে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে নদীয়া জেলার জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের শিঁকে ছিঁড়বে কি না, সেটাও দেখার। তবে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে যে একাধিক বিজেপি প্রার্থী রয়েছেন, সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। যদিও পদ্ম শিবিরের দাবি, এই সমস্ত সিদ্ধান্তই নেবে শীর্ষ নেতৃত্ব।
এনিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, নদীয়া দক্ষিণ হল বিজেপির শক্তঘাঁটি। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে শক্তিশালী করতে নদীয়া দক্ষিণের বড় অবদান রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব নিশ্চয়ই এই বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ করবে। রাজ্য নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শিরোধার্য।
রাজ্যেজুড়ে গরুয়া দাপটে পালাবদল হয়েছে। পতন হয়েছে পনেরো বছরের তৃণমূল সাম্রাজ্যের। হাতেগোনা সংখ্যালঘু কিছু আসনে ঘাসফুল ফুটলেও নদীয়া জেলাজুড়ে সামগ্রিকভাবে খর্ব হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের শক্তি। একাধিক আসনে ঘাসফুলকে দুরমুশ করে ফুটেছে পদ্ম ফুল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রের বিধায়ক এবং তিনবারের মন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস ২৭ হাজার ৮০০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তাঁকে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ। তাই মন্ত্রিত্বের দৌড়ে তাঁর নামও উঠে আসছে। আবার নাকাশিপাড়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা এবং পাঁচবারের বিধায়ক কল্লোল খাঁকে ১৭ হাজার ৩০০ ভোটে হারিয়েছেন শান্তনু দে। নবদ্বীপের বর্ষীয়ান নেতা পুণ্ডরিকাক্ষ সাহাকে ২৩ হাজার হারিয়েছেন শ্রুতশেখর গোস্বামী। রাজনৈতিক মহলের দাবি, তাঁরও পাল্লা ভারী। কারণ নদীয়া জেলায় বিজেপির হিন্দুত্বের হাওয়া আরও শক্তিশালি করতে নবদ্বীপ বিধানসভা থেকে এবার মন্ত্রিত্ব পেতে পারে।
তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, নদীয়া জেলায় রাজ্যের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার ব্যাপারে নদীয়া উত্তরের পাল্লাই ভারী থেকেছে বরাবর। তবে এবার সেই ধারা ভাঙতে পারে গেরুয়া শিবির। সে ক্ষেত্রে নদীয়া জেলায় মন্ত্রী বাছাই করতে দক্ষিণের মতুয়া অধ্যুষিত আসনগুলো প্রাধান্য পাবে। কারণ এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভের মধ্যেও মতুয়ারা বিজেপিকে উজার করে ভোট দিয়েছে। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের ন্যারেটিভ ধোপে টেকেনি। কৃষ্ণগঞ্জ থেকে কল্যাণী পর্যন্ত পদ্ম ফুটেছে। এই কেন্দ্রেই একাধিক হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন। সেই তালিকায় সবার উপরে রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি জয়ী প্রার্থী তথা বর্ষীয়ান নেতা পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়। নদীয়া দক্ষিণে পদ্মফুল ফোটার পিছনে অন্যতম কারিগর তিনি। এবার ৫৭ হাজার ৫০০ ভোটে তিনি জয়ী হয়েছেন। আবার চাকদহ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী তথা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষের নামও উঠে আসছে। সেই দৌড়ে রয়েছেন হরিণঘাটা জয়ী বিজেপি প্রার্থী অসীম কুমার সরকারও। তবে সর্বাধিক ভোটে জয়ী হওয়া কৃষ্ণগঞ্জ ও রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিচার বিবেচনা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই দুই কেন্দ্রেই বিজেপি নতুন মুখকে প্রার্থী করেছিল।