• কিছু পুলিশকর্তার বিপুল সম্পত্তির রহস্য সন্ধানে তৎপর গোয়েন্দারা
    বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত দু’দশকে আইপিএস, আইসি এবং ওসিদের একটা বড়ো অংশ বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন! রাজ্যের পলোবদলের পরই এ঩দের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রয়ে গোয়েন্দাদের হাতে। তাঁরা নানা জায়গায় বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, বাংলো এমনকি রিসর্ট পর্যন্ত কিনেছেন বলে খবর। এমন অভিযুক্তদের তালিকা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা বিভাগ। সেটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পৌঁছেও গিয়েছে। 

    সূত্রের আরও দাবি, রাজনীতি থেকে প্রশাসনিক সব ক্ষেত্রেই এঁদের প্রভাব মারাত্মক ছিল। যাবতীয় ট্রান্সফার, পোস্টিংকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তাঁরাই। রাজনৈতিক খুঁটি কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের কেউকেটা মনে করতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করা দূর, কিছু ঊর্ধ্বতন কর্তাকেও পাত্তা দিতেন না ওই প্রভাবশালীরা! পুলিশমহলে কান পাতলেই শোনা যায়, তাঁরা পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং পেতেন। এরা কারা? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, গত দু’দশকে এঁরা বিভিন্ন জেলা, সিআইডি, আইবি এবং কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব সামলেছেন। কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটলে তাঁরা লঘু করে দেখিয়েছেন। এমনকি থানায় সাধারণ মানুষ গেলে দেখা করা দূর, কুকুর-বিড়ালের মতোই আচরণ করতেন এই সমস্ত অফিসার। বিশেষ প্রভাবের কারণে কোনো অভিযোগই নিতে চাইতেন না তাঁরা। 

    এই ‘কীর্তির’ পুরোভাগে ছিল ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেনেছেন, আইপিএস, ওসি এবং আইসিদের এই অংশ দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির মতো শাঁসালো জেলায় কাজ করেছেন। পুলিশমহলের একাংশের দাবি, আইসি -ওসিদের পোস্টিংয়ে বিপুল টাকার লেনদেন হত।  একই ব্যক্তি এক জেলায় কাজ করেও আবার কিছুদিন পর সেই জেলাতেই  ফিরে এসেছেন। অভিযোগ, ভালো জায়গায় পোস্টিংয়ের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ কেস ডিল করতেন তাঁরা। এর সুবাদে কর্তারা বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই সমস্ত পুলিশ কর্তা বা অফিসার রাজ্যে, এমনকি রাজ্যের বাইরেও বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া, বিভিন্ন বড়ো রিয়েল এস্টেট সংস্থায় তাঁরা বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে রেখেছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পারছেন। সেই সংস্থাগুলিরও নাম হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। এমনকি, কলকাতা ও তাঁর আশেপাশে একাধিক জায়গায় অভিযুক্তরা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে খবর। সেগুলির দাম  কোটি টাকার উপর। তাঁরা এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হলেন কী করে, তার উৎস খোঁজা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, বেনামে কেনা এই সম্পত্তিগুলির মালিকানা কাদের নামে রয়েছে। যে-সমস্ত পুলিশ কর্তা বা আইপিএসের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কেস রুজু করা হবে বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে গোয়েন্দা সূত্রে। 
  • Link to this news (বর্তমান)