ক্যানিংয়ে তাণ্ডব, পুলিশকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৬, সাগরে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল সাগর ও ক্যানিং। সাগরে বিজেপি কর্মীর স্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন। ক্যানিংয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বাদ যায়নি পুলিশের গাড়িও।
ক্যানিং পশ্চিমের নারায়ণপুরে এই অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, রাতারাতি কিছু তৃণমূল নেতা নেত্রী ও কর্মী দল বদলে বিজেপি হয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে। নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতলায় রহিমা লস্কর নামে ওই প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে বুধবার সকাল থেকে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দখল থেকে শুরু করে এলাকায় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ ওঠে মহিলা নেত্রী ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ভাঙা হয় অটোও। ঘটনার পর পুলিশ কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত শুরু করে পুলিশ ও বাহিনী। যেখানে জটলা দেখা গিয়েছে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেছে পুলিশ। এমনকি লাঠিচার্জও করা হয়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ওই মহিলা নেত্রীও রয়েছেন।
এদিকে, সাগর থানার খাস রামকর এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী দুই যুবকের বিরুদ্ধে। তাঁরা তৃণমূলের দুষ্কৃতী বলে দাবি বিজেপির। গৃহবধূ সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওই মহিলা বাড়ির বাইরে বের হলে প্রতিবেশী দুই যুবক তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানা হেঁচড়া শুরু করে। এছাড়াও তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় তিনি চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখন ওই দুই যুবক পালিয়ে যায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি কর্মীর দাবি, পরিকল্পিতভাবে এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে এই কাজ করা হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, আক্রান্ত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে দুজন ধরা পড়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার গড়িয়া সন্ধ্যা বাজারে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, বিজেপি পরিচয় দিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী এলাকায় তাণ্ডব চালায়। চপ দোকানের মালিককে মারধর করে বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরে। অপরদিকে ডায়মন্ডহারবারের প্রাক্তন কাউন্সিলার অকূল মান্নার বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। ঘটনা শোনার পর ডায়মন্ডহারবারের বিজেপি নেতা দীপক হালদার তাঁর বাড়িতে যান। তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও ওইদিন রাতে ডায়মন্ডহারবার পুরসভার মূল দরজায় দুষ্কৃতীরা তালা লাগিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ।
দীপকবাবু বুধবার সকালে দাঁড়িয়ে থেকে সেই তালা ভেঙে দেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল ছেড়ে যারা সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, তাঁরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না।’ নিজস্ব চিত্র