নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাওড়া জেলা। একের পর এক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসনও। মঙ্গলবার রাতে উত্তর হাওড়ার ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে রামরাজাতলাতেও তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
অন্যদিকে, নাজিরগঞ্জের লিচুবাগান এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নেয়। অভিযোগ, সেখানে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক কর্মীর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় প্রশাসন।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার খবর পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই মঞ্চে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, থানা ভিত্তিক সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলেই কিংবা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।