• সংখ্যাগুরু ভোট ভাগ আটকে স্বাতীর জয়, কাণ্ডারী সুবীরের কৌশলে চর্চা চণ্ডীতলায়
    বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে শ্রীরামপুর মহকুমাজুড়ে গেরুয়া ঝড়। তার মধ্যেও শিবরাত্রির সলতে হয়ে টিঁকে গিয়েছে চণ্ডীতলা। এই মহকুমার একমাত্র বিধানসভা যেখানে ঘাসফুল ফুটেছে আবার। তৃণমূলের স্বাতী খোন্দকার প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। গেরুয়া ঝড় সত্ত্বেও চণ্ডীতলা তৃণমূলের হাতে থাকা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, অন্যান্য বিধানসভার মতো চণ্ডীতলাতেও বামের অবশিষ্ট ভোটের বড়ো অংশ গিয়েছে বিজেপিতে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভোটের হার কমেছে। এসআইআরেও কিছু নিশ্চিত ভোটার বাদ পড়েছেন। কিন্তু তারপরও রয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। 

    ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণের পর রাজনৈতিক মহলের দাবি, মুখ্যত দু’টি ঘটনা চণ্ডীতলায় তৃণমূলকে বাঁচিয়েছে। এক, সংখ্যালঘুদের সিংহভাগ থেকেছে তৃণমূলের পাশেই। বামেদের সহযোগী আইএসএফ এবারও চণ্ডীতলার সংখ্যালঘু ভোটে দাঁত ফোটাতে পারেনি। দু’নম্বর বিষয়টি হল হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা জেলা পরিষদ সদস্য সুবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি বর্ণহিন্দু। এবার প্রার্থী পদেরও দাবিদার ছিলেন। কিন্তু দল প্রার্থী না করলেও দলের পাশে থেকে লড়াই করেছেন। শিক্ষিত হিন্দু ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব আছে। ফলে হিন্দু ভোটের বিভাজন তিনি রুখে দিতে পেরেছেন। তার ফলেই বিজেপির বিজয়রথ আটকে গিয়েছে চণ্ডীতলায়। স্বাতী খোন্দকার বলেন, ‘আমি কখনও ভেদাভেদের রাজনীতি করিনি। সব মানুষকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে চেয়েছি। সুবীরবাবুর মতো নেতা এবং চণ্ডীতলার বিচক্ষণ মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ সুবীরবাবু বলেন, ‘আমি দলের প্রার্থীপদ না পাওয়ায় ক্ষোভ হয়েছিল। তার উপর শ্রীরামপুরের সাংসদ চণ্ডীতলায় এসে প্রকাশ্যে আমাকে হুমকিও দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আদর্শের জন্য রাজনীতি করি। সেভাবেই আমাকে চণ্ডীতলার মানুষ চেনে। সেই ভাবমূর্তি অনেক কষ্টে তৈরি করতে হয়েছে। তাই দুঃখ নিজের কাছে রেখে দলের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ করেছি।’ 

    এই পরাজয় নিয়ে বিজেপির বিশ্লেষণ, ধর্মভিত্তিক ভোট টানতে চণ্ডীতলায় দল ব্যর্থ হয়েছে। চণ্ডীতলায় ২৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। এসআইআর তার অনেকটা কেটেছে। কিন্তু তারপরও তৃণমূল ৪৭শতাংশ ভোট পায়। বিজেপির প্রার্থী ও স্থানীয় নেতা দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটের ফলাফল দলীয়স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, চণ্ডীতলায় তৃণমূল বিধায়কের নিজস্ব ভাবমূর্তির বিশেষ প্রভাব ছিল না। ঐতিহ্যগতভাবে চণ্ডীতলায় শিক্ষিত ও অভিজাত মানুষের সংখ্যা অনেক। সেখানে সরকারবিরোধীতাও ছিল। ফলে সুযোগ থাকলেও তা বিজেপির পক্ষে যায়নি। শেষ বিচারে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক যদি বুনিয়াদ তৈরি করে থাকে তবে তাকে ভরসা দিয়েছে সুবীরবাবুদের মতো হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কের পাহারাদার। 
  • Link to this news (বর্তমান)