দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একের পর এক কার্যালয় দখলমুক্ত করল সিপিএম
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বজবজ: ২০১১ সালের পর থেকে সিপিএমের বহু কার্যালয় দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। রাজ্যে পালাবদল হতেই উলটপুরাণ। দখল হয়ে যাওয়া কাস্তে-হাতুড়ির সেই সব অফিস একে একে দখলমুক্ত করার কাজে নেমে পড়েছে সিপিএম। পাশাপাশি, তৃণমূলের বহু অফিস দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, বজবজ, ফলতা পর্যন্ত যতগুলি সিপিএমের অফিস দখল হয়েছিল। মঙ্গল ও বুধবার থেকে সেগুলি দখলমুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছে সিপিএম। গুঞ্জন, গেরুয়া শিবিরের অদৃশ্য হাত রয়েছে এ সবের পিছনে। বারুইপুর এবং বজবজ মিলিয়ে তিনটি অফিস মুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলি দখলমুক্ত করা হবে বলে সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল যে কায়দায় সিপিএমের কার্যালয় দখল করেছিল। এখন একই কায়দায় পদ্ম-পতাকা হাতে নিয়ে একদল লোক তৃণমূলের দলীয় অফিস দখলে নেমেছে। কোথাও ভাঙচুর চলছে। বজবজ, ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকে এমন একাধিক জোড়া ফুলের অফিস দখল হয়েছে। কোথাও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রভাত চৌধুরীর কথায়, ২০১১ সালের পর ২০১৬ এবং ২০১৮ তে বজবজের বীণা সিনেমা এবং গোবরঝুড়িতে দলের অফিস তৃণমূল দখল করে নেয়। সেই দু’টি মঙ্গলবার এবং বুধবার দখলমুক্ত হয়েছে। বারুইপুরের পশ্চিম কাছারি বাজারে ১৯৮৩ সাল থেকে সিপিএমের অফিস চলছিল। ২০১৩ সালে তা দখল করে নেয় জোড়া ফুল শিবির। সেই অফিস এবার দখলমুক্ত করেছে সিপিএম। অন্যদিকে, ফলতা এলাকায় সরারহাট, বহিরামপুর, ফলতা এক্সপোর্ট জোন এক নম্বর গেট, মল্লিকপুরসহ ৮ থেকে প্রায় ৯টি সিপিএমের অফিস দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। ফলতা এরিয়া কমিটির সদস্য ও ফতেপুর দলীয় কার্যালয়ের ইনচার্জ শম্ভু কুর্মী বলেন, দখলমুক্ত করার জন্য মঙ্গলবার সব জায়গায় ঘুরে এসেছি। ফলতা এক্সপোর্ট জোনের শ্রমিক সংগঠনের অফিসে দেখলাম পদ্ম পতাকা উড়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলি দখলমুক্ত করা হবে। এদিকে রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদক সবিতা চৌধুরী এবং ফতেপুরের শিবানিপুরের বিজেপি নেতা বাপ্পাদিত্য মণ্ডল বলেন, দখলদারি বরদাস্থ করা হবে না। যদি কেউ পদ্ম পতাকা নিয়ে তা করে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে তারা আমাদের কেউ নন।
২০১৬ সালে পাথরপ্রতিমা বিধানসভার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপুর বাজারে অবস্থিত জাতীয় কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা সেই পার্টি অফিস আবারও কংগ্রেসকে ফিরিয়ে দিল।