পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোয় ধৃত ৪, থমথমে সন্দেশখালির ন্যাজাট
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রেপ্তারি, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে সন্দেশখালি বিধানসভা এলাকায় ভোট-পরবর্তী অশান্তি মোকাবিলায় নেমেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে গুলি চালনার ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক তাজা সকেট বোমা এবং বিস্ফোরক। রাতভর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা জোরদার হয়েছে। ধৃতদের বুধবার বসিরহাট আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
মঙ্গলবার রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার অন্তর্গত সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর বামনঘেরি এলাকায় আচমকা উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল থেকে এলাকায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতের দিকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ টহল শুরু হয়। সেই সময় দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় গুলিবিদ্ধ হন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত ভূষণ কর, রাজবাড়ি আউটপোস্টের ইনচার্জ ভাস্বত গোস্বামী ও এক মহিলা পুলিশকর্মী। সেই সঙ্গে দুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক তৎপরতা নজরকাড়া। বসিরহাট পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের নেতৃত্বে রাতভর অভিযান চালানো হয়। এলাকায় ঢোকা-বেরনোর সমস্ত রাস্তা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার, বারাসত রেঞ্জের আইজি অমিত পি জাভালগি এবং বসিরহাটের পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল। তাঁরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজে একাধিক দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যে ধৃত চারজনকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছিল। মূলত তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ভেড়ি দখল নিয়ে উত্তেজনা ছিল। আর সেই খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছতেই তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বর্তমানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এনিয়ে বারাসত রেঞ্জের আইজি অমিত পি জাভালগি বলেন, রাতে কয়েকটি বাড়িতে হামলা হয়েছিল। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে এখানে আসে। পুলিশ ও সিএপিএফ সেখানে ছিল। এবং তাদের উপর হামলা করা হয়। সেখানে থাকা একজনের পায়ে গুলি লাগে। কয়েকজন সিএপিএফ জওয়ান সামান্য আহত হন এবং একজন মহিলা কনস্টেবলও আহত হন। হামলায় জড়িতদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য দাবি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই। এটি শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। যদিও তৃণমূলের দাবি, এলাকা দখল নিয়ে বিজেপি কর্মীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
বুধবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা শাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া জেলার সমস্ত পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী কোথাও অশান্তি হলে বরদাস্ত করা হবে না। রাজনীতির রং না দেখে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। উপস্থিত ছিলেন বারাসত ও বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার, বসিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিধাননগর ও বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপিরা।