পরিবর্তনের সঙ্গেই ধাক্কা স্বাস্থ্যসাথীতে! ফেরাচ্ছে হাসপাতাল-নার্সিংহোম, বিপাকে বহু রোগী
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তার পিছনে যেসব জনমুখী প্রকল্পের অবদান ছিল, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ তার অন্যতম। মহিলাদের পরিবারের প্রধান উপভোক্তা রেখে ইস্যু করা এই ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু যতদিন তা চালু না হচ্ছে, ততদিন কী করবেন রোগী বা তাঁদের পরিবার? এই সংকটের কারণ, রাজ্যে পালাবদল নিশ্চিত হতেই কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের অসংখ্য ছোটো, মাঝারি ও বড়ো হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিতে চাইছে না। হাসপাতালগুলির ভয়, আগামীতে প্রকল্পই যদি উঠে যায়, চিকিৎসার টাকা তারা কীভাবে পাবে? আর রোগীদের উদ্বেগ, এই কার্ড কাজে না লাগলে তাঁরা যাবেন কোথায়? কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে তাঁরা কি আর নিখরচায় বা কম খরচে চিকিৎসা করাতে পারবেন? এখনও তো ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হয়নি। তাহলে উপায় কী!
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে স্বাস্থ্যভবনের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কল সেন্টারে অসংখ্য উদ্বিগ্ন মানুষ ফোন করছেন। প্রাইভেট হাসপাতালের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ডেস্কের কর্মীরা ফোন করে জানতে চাইছেন, রোগী ভর্তি করাবেন কি না। পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্ব ভারতের বড়ো হাসপাতালগুলির সংগঠনের শীর্ষকর্তা রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের সংগঠনভুক্ত ২৩টি হাসপাতালের একাধিক শীর্ষকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যসাথী একেবারে নিচ্ছি না, তেমন নয়। তবে শুধুমাত্র ইমার্জেন্সি পরিষেবা, যেমন ডায়ালিসিস, ইমার্জেন্সি অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি, কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যানড অপারেশনে (অ্যাপেনডিক্স, হার্নিয়া, গলব্লাডার ইত্যাদি) কার্ড নিচ্ছি না।’ রূপকবাবু আরও বলেন, ‘আমরা চাই, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে সংশয় মিটুক। নতুন সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করুক।’
যদিও রাজারহাটের টাটা মেডিকেল সেন্টারের মতো বড়ো হাসপাতালের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পারে। কিন্তু সরকার তো সরকারের মতো চলবে। আর স্বাস্থ্যসাথী সরকারি প্রকল্প। তাই ক্ষমতা বদল হলেও টাকা পেতে সমস্যা হবে না। নতুন সরকার যতক্ষণ না ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড বন্ধ করতে বলবে বা নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেবে, ততদিন তাঁরা কার্ড নেবেন। একই মত আলিপুরের একটি বড়ো হাসপাতালেরও। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে দাবি, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে তাদের কল সেন্টারে প্রচুর ফোন এলেও এর আওতায় পরিষেবা পাওয়া রোগীর সংখ্যা খুব একটা কমেনি। কমেনি ক্লেইম মেটানোর আর্থিক পরিমাণও। মঙ্গলবারও সাড়ে ৮ কোটি টাকার ক্লেইম মেটানো হয়েছে।
নয়া সরকার যদি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী’— দু’টি সুবিধাযুক্ত কোনো কার্ড রাজ্যবাসীকে দিতে চায়, কীভাবে তা সম্ভব হবে? সেই পরিকল্পনাও করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। সূত্রের খবর, রাজস্থানে এমন কার্ড ইতিমধ্যেই আছে। বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে এই সংকট সম্পর্কে আমরা অবহিত। বিষয়টি দেখা হবে।’