নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাজ্যে পালাবদল হতেই হাওড়ায় পুরভোটের দাবি জোরালো হয়েছে। গত আট বছর ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই এই শহরে। ফলে কাউন্সিলার না থাকায় পরিষেবা কার্যত ডকে উঠেছে। রাস্তা, পানীয় জল, জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশি ব্যবস্থা— সব ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের। এমনকি, কোনো শংসাপত্র দরকার হলে সাধারণ মানুষকে ছুটতে হত বিধায়কের কাছে। তাঁরাই বলছেন, এবার দ্রুত পুরভোট হলে বাঁচি!
মঙ্গলবার সকালে শানপুর মোড়ে এক চায়ের দোকানে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন এক যুবক। স্থানীয় বাসিন্দা তিনি। নাম প্রবাহ চক্রবর্তী। তিনিই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, পুরভোট কবে হবে? পাশে বসা আরেকজন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জবাব দিলেন, ‘সবে তো পরিবর্তন হয়েছে। এবার হাওড়ার হাল নিশ্চয়ই ফিরবে।’ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের প্রভাব হাওড়ায় স্পষ্ট হতেই শহরের অলিগলি জুড়ে এখন একটাই আলোচনা, ‘পুরসভা ভোট কবে’? বিজেপি নেতৃত্বও ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খুব শীঘ্রই নির্বাচন হতে পারে।
২০১৩ সালে হাওড়ায় শেষ পুরভোট হয়েছিল হাওড়ায়। ২০১৮ সালে সেই বোর্ডের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। তারপর হাওড়া ও বালি পুরসভার সংযুক্তি ও বিযুক্তিকে ঘিরে নানা টালবাহানা চলেছে। তার উপর নতুন করে ডিলিমিটেশনের গেরোয় আটকে গিয়েছে পুরভোট। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর সরকার পুরসভার মাথায় প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়। সেই থেকেই নির্বাচিত বোর্ড ছাড়াই চলেছে হাওড়া পুরসভা। শহরবাসীর প্রত্যাশা, পালাবদলের পর এবার নিশ্চয়ই বেহাল পুর পরিষেবার হাল বদলাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর হাওড়া, শিবপুর ও বালির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৃণমূলের ভরাডুবির পিছনে অন্যতম বড়ো কারণ পুরসভার নির্বাচন না হওয়া। এই তিন কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়কদের কাছেও এখন দ্রুত পুরভোটের দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বালির জয়ী বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠনের পরই পুরসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগবে। তাঁর কথায়, ‘পুরসভা অচল হয়ে থাকার কারণেই মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছিল। শহরের বেহাল পুর পরিষেবা নিয়ে আমরা লাগাতার প্রচার করেছি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব। নাগরিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্যের কথায়। তিনি বলেন, ‘হাওড়া পুরসভার নির্বাচন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। দলীয় নেতৃত্বের কাছ বিষয়টি ইতিমধ্যেই উত্থাপন করেছি এবং ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি।’
বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ী— সকলেই দ্রুত পুরভোটের পক্ষে সওয়াল করছেন। তাঁদের আশা, নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী প্রশাসন এলে জল, নিকাশি ও আবর্জনার সমস্যার সমাধান হবে। ওলাবিবিতলার বাসিন্দা দেবদীপ সরকার বলেন, ‘হাওড়া আবর্জনার শহর হয়েই থাকুক, চাই না। নতুন সরকারের কাছে সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবাই প্রত্যাশা করছি।’ উত্তর হাওড়ার রোজমেরি লেনের বাসিন্দা ভবেশ মিশ্রের বক্তব্য, ‘জমা জলের সমস্যায় নাজেহাল আমরা। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই, তাই পুরভোটটা হওয়া দরকার।’