স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘জুতোটা পালিশ করে দেব নাকি বাবু?’— রাইটার্স বিল্ডিংয়ের উলটোদিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কলকাতা অফিসের সামনের ফুটপাতে হাঁক দিলেন এক বৃদ্ধ। দেখা গেল, সার দিয়ে বসে রয়েছেন একই পেশার তিন-চারজন। সাম্প্রতিক অতীতে তাঁদের দেখা যেত না রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ধারেকাছে। হঠাৎ আবার বসছেন এখানে? প্রশ্ন করতেই বৃদ্ধ জানালেন, ‘বিজেপি জিতেছে। শুনলাম লালবাড়ি থেকে আবার সরকার চালানো হবে। সরকারি আধিকারিক, পুলিশরা আসবেন। তাই আগে থেকেই বসে পড়েছি। নাহলে পরে আর জায়গা পাব না। জ্যোতিবাবুর সময়ে তো এখানেই বসতাম।’
‘রাইটার্স বিল্ডিং থেকে আমাদের সরকার চলবে।’ নির্বাচনে জেতার আগেই এই বক্তব্য রেখেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছাব্বিশের ভোটে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। হাওড়ার ‘নবান্ন’ থেকে ফের মুখ্যমন্ত্রীর অফিস স্থানান্তর হতে চলেছে কলকাতার হৃদপিণ্ড ডালহৌসিতে। এই খবর রটতেই একটু একটু করে ভোল বদলাচ্ছে রাইটার্স চত্বরের। বুধবার দেখা গেল, রাইটার্সের ভিতরে মুখ্যমন্ত্রী সহ মুখ্যসচিব ও একাধিক সচিবালয় ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। ঘরের মেঝেতে বসেছে মার্বেল, খসে যাওয়া পলেস্তরায় পড়েছে সিমেন্টের প্রলেপ। এবার শুধু রং করে দিলেই ফিরে আসবে সেই আভিজাত্য। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস স্থানান্তরিত হবে বলে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা একধাক্কায় বাড়িয়ে দিয়েছে লালবাজার। আগে রাইটার্সের পূর্বমুখী দরজায় শুধুমাত্র কয়েকজন হোমগার্ড আর এএসআইকে দেখা যেত। এদিন সেখানে দেখা গেল, দু’জন সার্জেন্ট পদমর্যাদার অফিসার সহ বিরাট পুলিশ বাহিনীকে।
গেরুয়া পার্টির সরকার রাইটার্স থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেই খবর রটতেই অফিসপাড়ায় খাবারের স্টলগুলি ফের সচল হতে শুরু করেছে। উৎসাহিত ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, গত ১২ বছর ধরে আমাদের ব্যবসা কার্যত লাটে উঠেছিল। খুব বেশি লোক আসতেন না। বাম আমলে খাবারের প্রধান অর্ডারই আসত রাইটার্স থেকে। ভাত-ডালের একটি স্টলের মালিক কমল মণ্ডল বলছেন, ‘বাম আমল থেকে এখানে ব্যবসা করছি। সরকারি অফিস থেকে আগে কত অর্ডার আসত আমার কাছে। সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরিত হওয়ার পর শুধু ব্যাঙ্কশাল কোর্টের উপরই ভরসা করে থাকতে হত আমাদের। এবার ফের জমে উঠবে ব্যবসা।’
গত ১২ বছরে আরও একটা বড়ো পরিবর্তন হয়েছে রাইটার্স চত্বরে। তৈরি হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন— মহাকরণ। এই স্টেশনের পাশেই নতুন করে হকার বসতে শুরু করেছেন। হিম্মত শেখর নামের এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘আমার টেবিলটা আগেও ছিল। কিন্তু, নিয়মিত বসতাম না। কারণ রাইটার্স থেকে অফিস নবান্নে চলে যাওয়ার পর ব্যবসা আর ভালো চলত না। এখন আবার প্রতিদিন বসব। অফিসযাত্রীদের আনাগোনা বাড়বে। আর মেট্রো হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ এই পথেই রাইটার্সে আসবেন।’