কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথ কন্ট্রোল রুম, তৎপর পুলিশ, ভোট মিটলেও হাঙ্গামা-ভাঙচুর অব্যাহত
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসা ও অশান্তি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কন্ট্রোল রুম খোলা হল কলকাতায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে হিংসাপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতেও এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গোলমাল বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশের শীর্ষমহল।
ভোট মিটতেই বেলেঘাটা, বেহালা, সিঁথি, আনন্দপুর সহ শহরের নানা জায়গায় একের পর এক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। জায়গায় জায়গায় তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর, নেতা-কর্মীদের মারধর চলছে। আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায়ও রাজনৈতিক হিংসা ছড়িয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ২০২১-এর তুলনায় এই ধরনের ঘটনা কম। তা বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চায় না তারা। দিল্লির শীর্ষস্তর থেকে পুলিশের বড়োকর্তাদের কাছে নির্দেশ এসেছে, কোনো অবস্থাতেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কীভাবে সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স)-কে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের সিপি। কোন কোন এলাকা উত্তেজনাপ্রবণ, স্পর্শকাতর এবং কোথায় কোথায় গোলমালের আশঙ্কা রয়েছে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলে। সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্যে থাকা ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন থানায় থাকবে। পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে তারা। সূত্রের খবর, এক-একটি থানায় প্রায় ৪০ জন জওয়ান থাকবেন। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বাহিনীর যৌথ কন্ট্রোল রুম থেকে বিষয়টি পরিচালনা করা হবে। কন্ট্রোল রুমে খবর এলেই থানায় থাকা ফোর্স পাঠানো হবে অকুস্থলে। বাড়তি বাহিনী লাগলেও ব্যবস্থা হয়ে যাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে। তাই কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানাকে সিপির নির্দেশ, কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমকে জানাতে হবে।
এদিকে, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ডিসি পদমযার্দার পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব করেছিল ইডি। তিনি এখন কোথায়, লালবাজারের কাছে তা জানতে চেয়েছিল ইডি। জবাবে তারা জানিয়েছে, ওই অফিসার অফিসে আসছেন না। এখন তিনি কোথায়, জানা নেই লালবাজারের। বুধবার সংবাদিক বৈঠকে সিপি অজয় নন্দা বলেন, ‘ওই অফিসার কোথায় আছেন, তা নিয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।’