• বুলডোজার নিয়ে মিছিল করলেই গ্রেপ্তার, তাণ্ডব রুখতে কড়া পুলিশ কমিশনার, আর্থ মুভার মালিকদেরও হুঁশিয়ারি লালবাজারের
    বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামপুকুর ও নিউ মার্কেট। বিজেপির বিজয়োল্লাসে শহরের দু’জায়গায় বুলডোজারের ‘জয়-রাইড’ দেখেছে মানুষ। সেই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় নিউ মার্কেটের দুর্গাপুজোর ক্লাব। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই তাণ্ডবের সাক্ষী থাকেন আইনের রক্ষক পুলিশ! শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তীর বাড়ি পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে। তাঁর বাড়ির পাশে বিনানি ভবনের সামনে থেকে বিজেপির বিজয় মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিলের সামনে ও পিছনে ছিল দু’টি বুলডোজার। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তার উপর উঠে উচ্ছ্বাস দেখালেও সেখানে কোনো ভাঙচুর বা তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেনি। 

    কিন্তু নিউ মার্কেটে পুলিশের সামনেই বুলডোজারের তাণ্ডব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। গেরুয়া শিবিরের বিজয় মিছিলের ওই দৃশ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই নড়েচড়ে বসল লালবাজার। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দার কড়া বার্তা, ‘বুলডোজার নিয়ে কোনো মিছিল করা যাবে না। করলেই গ্রেপ্তারির সম্মুখীন হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুলডোজার সহ সমস্ত ধরনের আর্থ মুভার মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁদের লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো বিজয় মিছিলের জন্য বুলডোজার ভাড়া দেওয়া যাবে না। ভবিয্যতে কোনো বুলডোজার নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেলে সেটি বাজেয়াপ্ত করবে সংশ্লিষ্ট থানা। শুধু তাই নয়, ওই বুলডোজারের মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া, বিজয় মিছিলের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।’ 

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে নিউ মার্কেট চত্বরে কলকাতা পুরসভার সামনে বুলডোজার দিয়ে ক্লাব ভাঙচুর চালানোর সময় পুলিশ স্রেফ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। স্বভাবতই এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বুলডোজার নিয়ে কোথাও ভাঙচুর চালানো যাবে না। নিউ মার্কেটের ঘটনাস্থলে যেসব পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা কেন কোনো পদক্ষেপ করলেন না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ উত্তর দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের।’ 

    লালবাজার সূত্রে খবর, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য নির্দেশ গিয়েছে সব থানায়। সিপি জানিয়েছেন, শহরে ৬৫ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স এখনও রয়েছে। সিএপিএফের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে লালবাজারে। কোথাও অবৈধ জমায়েত বা হাঙ্গামার খবর পেলেই পুলিশকে সরাসরি জানাতে পারবে সাধারণ মানুষ। ১০০ কিংবা ১১২ নম্বর ডায়াল করে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে খবর দেওয়া যাবে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)