এবার যাদবপুরে গেরুয়াপন্থী ছাত্র ও কর্মীরা জমি শক্ত করতে তৎপর, পুলিশি নিরাপত্তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
বর্তমান | ০৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও এবার জমি শক্ত করতে নামল বিজেপির ছাত্র এবং কর্মচারী সংগঠন। বুধবার বিজেপি অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ এবং ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সদস্যরা অরবিন্দ ভবনের গাড়ি বারান্দার সামনে জমায়েত করেন। পরিষদের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজি বলেন, ‘যাদবপুর রাষ্ট্রবাদী চিন্তাভাবনা থেকে স্থাপিত হয়েছিল। তাই জাতীয়তাবাদী ভাবধারাই এখানে থাকবে। পাশাপাশি বামপন্থাও থাকতে পারে। তবে, উগ্র বাম বা নকশালপন্থী কোনো সংঠেনের এখানে স্থান নেই।’
যে যাদবপুর সবসময় বামপন্থী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠত, এদিন সেখানে হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ওঠে। নকশালপন্থী সংগঠন আরএসএফকেও মাওবাদী বলে অভিযোগ তোলেন জমায়েতকারীরা। প্রসঙ্গত, জাতীয়তা ভাবধারায় প্রতিষ্ঠিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন দেশদ্রোহী স্লোগান ওঠে, দেওয়াল লিখন হয়। এই প্রতিষ্ঠান এখন অতীত গৌরবের ছায়া মাত্র। এই ধাঁচেই বক্তব্য রেখে বারুইপুরের জনসভা থেকে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে থাকা রাজ্য সরকার পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন জমায়েতকারীদের তরফেও এই ভাষায় অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁরা বলেন, উপাচার্যরা এখানে দলদাসের মতো আচরণ করেছেন। কর্মচারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির হাতে এআইডিএসও-র অনুগামী ছাত্রছাত্রীরা সোমবার প্রহৃত এবং মারাত্মক জখম হওয়ার পরে এদিন সেখানে কলকাতা পুলিশের তরফে নিরাপত্তা আঁটসাট করা হয়। পরিচয়পত্র ছাড়া ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় অনেককেই। অনেক প্রশ্নোত্তর, খানা-তল্লাশি পেরিয়ে ঢুকতে হয় ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের একাংশকেও। এখন থেকে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের দুটি গেটেই পুলিশি নিরাপত্তা রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে, এই ব্যবস্থা আগেই করা হলে সোমবারের এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঠেকানো যেত বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।