আইপ্যাক-সহ শীর্ষ কোর্টের মামলায় মোড় ঘুরতে পারে পালাবদলে
আনন্দবাজার | ০৭ মে ২০২৬
আইপ্যাকের কর্ণধারের ঠিকানায় তল্লাশির সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছিল ইডি। এত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা পুলিশকর্তাদের হয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করছিলেন। এ বার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে কী অবস্থান নেবেন?
শুধু ইডি-আইপ্যাক নয়। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা মেটানো থেকে, রাজ্যে সিবিআই তদন্তের ঢালাও অনুমতি প্রত্যাহার বা ওবিসি সংরক্ষণ মামলা— পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের ফলে সুপ্রিম কোর্টে এই সমস্ত মামলার গতিপ্রকৃতিতেই বদল আসতে পারে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন। কারণ তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে এই সব মামলায় অবস্থান বদলে ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইডি-আইপ্যাকের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপরেই মমতার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত হবে কি হবে না, তা নির্ভর করছে বলে আইনজীবীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির উপরে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
শীর্ষ আদালতে শুনানির উপরে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের যে প্রভাব পড়বে, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র মামলায় তার প্রতিফলন ঘটেছে। ভোটের আগে শুনানিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছিল, রাজ্য সরকার একাংশ কর্মীকে ডিএ দিতে রাজি হলেও সরকারি অনুদানে চলা সংস্থার কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা বকেয়া ডিএ পাচ্ছেন না। রাজ্য সরকার এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইছে।
বিজেপি ভোটের ইস্তাহারে ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বুধবার এই মামলার শুনানির আগে রাজ্যের আইনজীবী সরকারের থেকে নির্দেশ নিতে হবে বলে মামলার শুনানি স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন। তার ফলে এই মামলার শুনানির জন্য গঠিত বিশেষ বেঞ্চ বাতিল হয়ে গিয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবের মতে, ‘‘রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হলেও সরকার একটি নিরন্তর ব্যবস্থা।তাই একবার আদালতে হলফনামা দিয়ে জানানো অবস্থান কোনও রাজ্য সরকার বদলাতে পারে না। মানুষের স্বার্থ, রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য নীতিগত পরিবর্তন করা হলে সুপ্রিম কোর্টে অবস্থান বদল হতে পারে।’’
ইডি-আইপ্যাকের মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কপিল সিব্বল সওয়াল করেছিলেন। পুলিশ-কর্তাদের হয়ে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের দায়ের করা বিভিন্ন মামলার ভবিষ্যৎ কী? প্রশ্নের উত্তরে সিব্বল উত্তর দিয়েছেন, “জানা নেই। দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই জানা নেই।”
তৃণমূল সরকার রাজ্যে সিবিআই তদন্তের ঢালাও অনুমতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ প্রত্যাহার করেছিল। তার পরেও রাজ্যের অনুমতি না নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু করায় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে এসেছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলা গ্রহণ করেছে। বৃহত্তর বেঞ্চে তার শুনানি বাকি। আইনজীবীদের প্রশ্ন, বিজেপি সরকার কি এ বার সিবিআই তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেবে? সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল সরকারের ওবিসি-মুসলিমদের সংরক্ষণ নিয়ে মামলাও ঝুলে রয়েছে। সেখানেও রাজ্যের অবস্থান বদল হবে কি না, প্রশ্ন রয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য, একমাত্র স্বস্তির বিষয় হল, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বনাম রাজ্যপাল বিবাদ মামলার সিংহভাগ সমস্যাই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।