শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে হত্যার তদন্তে গঠিত হল সিট! রাজ্য পুলিশের সঙ্গে বিশেষ তদন্তকারী দলে রাখা হল সিআইডি-কেও
আনন্দবাজার | ০৭ মে ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যার তদন্তে এ বার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হল। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন। তবে কত জন সদস্যকে নিয়ে এই সিট গঠিত হয়েছে, কোন আধিকারিকেরা এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র ডিজি প্রবীণ কুমারও মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত বুধবার রাতেই গিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে। তদন্তের স্বার্থে তিনি বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি। তবে রাজ্যের পুলিশপ্রধান সিদ্ধনাথ জানিয়েছেন, অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে।
চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে ইতিমধ্যে আসরে নেমেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা পৌঁছে গিয়েছেন মধ্যমগ্রামের অকুস্থলে। রাজ্য পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাতেই পৌঁছে যায় সেখানে। যে গাড়িটিতে চন্দ্রনাথ ছিলেন, সেই গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক আধিকারিকেরা। গাড়ির সামনের দিকে দু’টি আসনেই রক্তের ছোপ রয়েছে। সেই দু’টি আসন-সহ গাড়ির বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা।
বুধবার রাতে যেখানে চন্দ্রনাথকে গুলি করা হয়েছে, সেই এলাকাটি পুরোটা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও মোতায়েন রয়েছেন ঘটনাস্থলে। চন্দ্রনাথ যে আবাসনে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। ওই পথে যানবাহন চলাচল আপাতত বন্ধ রেখেছে পুলিশ। লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল থেকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে পাঠানো হয় চন্দ্রনাথের দেহ। বর্তমানে বারাসত হাসপাতালের মর্গেই রাখা আছে তাঁর দেহ। বৃহস্পতিবার সেখানেই তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম তৈরি করেছে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তিন সদস্যের টিমে। এই ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মেডিক্যাল কলেজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে ময়নাতদন্ত। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বারাসত হাসপাতালে যাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।