• ‘ঘৃণা উসকে দেওয়া বুলেটের মতোই ভয়ঙ্কর’, ভোট পরবর্তী হিংসায় বঙ্গবাসীকে সুনাগরিক হওয়ার পাঠ ঋদ্ধির
    প্রতিদিন | ০৭ মে ২০২৬
  • ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া যতটা শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে, ভোট পরবর্তী অধ্যায়ে হিংসা-হানাহানিতে ততটাই ফুটছে বাংলা! ভোটের গণনার ৩ দিন পরও রাজ্য়ে অব্যাহত হিংসা। দিকে দিকে আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপি-তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকরা। বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। পাশাপাশি এদিন তিন তৃণমূল কর্মীর খুনের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী সাঙ্গ হওয়ার পর যেখানে বাংলায় শান্তির আশা করেছিল রাজ্যবাসী, সেখানে অশান্ত সময়ের খাঁড়ায় দুশ্চিন্তার কালমেঘ ঘনিয়েছে জনমানসে। এমতাবস্থায় বঙ্গবাসীকে সুনাগরিক হওয়ার পাঠ দিলেন ঋদ্ধি সেন।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি প্রকাশ্যে আসছে। কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও বা আক্রান্ত হচ্ছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরাও। তবে বুধবার শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের রহস্যমৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এবার আমজনতাকে সংযত হওয়ার নিদান ঋদ্ধি সেনের। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতার মন্তব্য, “চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ভয়াবহ। ক্ষমতার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায় বার বার। অকারণ! এই হত্যার বিচার হোক অবিলম্বে। এই সময়টা খুব কঠিন, বিপজ্জনক, রাজ্যের কাছে এখনও আইনি রাস্তায় হাঁটার উপায় আছে, কিন্তু সোশাল মিডিয়ার রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার বিসর্জন ঘটেছে বহু বছর আগেই। এখানে মানুষের অধিকারের সকল নিয়ম লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যাওয়া যায়। এখানে আমাদের প্রয়োগ করা শব্দগুলো কাজ করে গুলির মতো। তাই আপনাদের সকলকে একজন সহনাগরিক হিসেবে আমার অনুরোধ, এইসময়ে আমাদের একটাই দায়িত্ব, হিংসা আর ঘৃণায় ভরা নিজেদের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশকে সংযত করা, দায়িত্বশীল হওয়া।” নেটভুবনের ‘খাপ পঞ্চায়েত’ কিংবা শব্দচয়ন কীভাবে হিংসাকে উসকে দেয়? সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা।

    ঋদ্ধির সংযোজন, “সোশাল মিডিয়ায় ঘৃণা উসকে দেওয়া কথা বুলেটের মতোই ভয়ঙ্কর। পরিস্থিতির সুস্থতা বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। ঘৃণার বার্তা ছড়াতে দেখলে প্রতিবাদ করুন। ফেসবুকে আদালত বসানো থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। আইন ব্যবস্থাকে, প্রশাসনকে নিজের কাজ করতে দিন। প্রতিবাদের ভাষা হিংসার বিরুদ্ধে হোক, হিংসার পক্ষে নয়।” মন্তব্য বাক্সে অভিনেতার সঙ্গে অনেকেই সহমত পোষণ করেছেন। আসলে বাংলার পালাবদলের রাজনীতিতে ভোট পরবর্তী অধ্যায়ে অতীতেও সাধারণ মানুষকে বলি হতে হয়েছে। ছাব্বিশেও সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। সেকারণেই এই অশান্ত সময়ে বঙ্গবাসীকে সুনাগরিকত্ব বোধের পাঠ ঋদ্ধি সেনের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)