• সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে মরিয়া বিজয়কে আবারও ফেরাল রাজ্যপাল, আলোচনার সময়সীমা বেঁধে ‘রিসর্ট রাজনীতি’ AIADMK-র
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে টানটান নাটক। সরকার গঠন নিয়ে নিয়ে জট আরও বাড়ল। সরকার গঠনের দাবি নিয়ে বুধের পরে ফের বৃহস্পতিতেও রাজ্যপাল আরভি আর্লেকারের ( Governor Rajendra Arlekar) দ্বারস্থ TVK সুপ্রিমো থালাপতি বিজয়। সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর লোকভবনে গিয়ে অভিনেতা-রাজনীতিক সরকার গঠনের দাবি পুনরায় জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে বিধানসভায় ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। কিন্তু তা মানতে নারাজ রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, শপথ নেওয়ার আগেই প্রমাণ করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে বিজয়ের শপথ ও TVK-র সরকার গঠন এখন বিশ বাঁও জলে।

    ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল Tamilaga Vettri Kazhagam ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। বিজয়ের দল, TVK ১০৮ আসন জিতেছে। কিন্তু বিজয় দু'টি কেন্দ্র (পেরাম্বুর ও ত্রিচি পূর্ব) থেকে জয়ী হওয়ায়, তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে দলীয় বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৭। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের থেকে TVK ১০টি আসন পিছিয়ে। পরে কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় সংখ্যাটা ১১২ (১০৭+৫)-তে পৌঁছলেও এখনও ম্যাজিক ফিগারের থেকে কয়েক ধাপ দূরে রয়েছে দলটি। বুধবারও ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপাল সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয়। কিন্তু, রাজ্যপাল তাঁকে গতকালও ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়ে ফিরিয়ে দেন।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য AIADMK-র সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পলানিস্বামীর সঙ্গেও টিভিকে যোগাযোগ করে বলে খবর। TVK-র সঙ্গে ডিল সিল করতে সময়সীমা বেঁধে চাপ বাড়াচ্ছে AIADMKও। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগামকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তারা। ব্যাকডোর দিয়ে ঘোড়া কেনা-বেচা ঠেকাতে দলটি তাদের একাধিক নবনির্বাচিত বিধায়ককে হঠাৎ করেই পুদুচেরির একটি বিলাসবহুল রিসর্টে সরিয়ে নিয়ে গেছে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নয়, বরং দল ভাঙন ঠেকাতে বড়সড় কৌশল। সূত্রের খবর, অন্তত ২৫ জন AIADMK বিধায়ককে চেন্নাই থেকে সরাসরি পুদুচেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে, বিজয়ের দল TVK সরকার গঠনের জন্য বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ‘রিসর্ট পলিটিক্স’-এর পুরোনো কৌশল ফিরিয়ে আনল এআইএডিএমকে। এ দিকে AIADMK-র সঙ্গে জোট বাঁধলে আবার হাত ছাড়বে কংগ্রেস। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে উভয় সঙ্কটে লিও-র নায়ক।

    পাশাপাশি, ছোট দল ও নির্দল বিধায়কদের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টাও চালাচ্ছে বিজয়ের শিবির। কিন্তু বাম দল এবং IUML ইতিমধ্যেই ডিএমকের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করা বিজয়ের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি টিভিকে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ডিএমকে-কে সরকার গঠনের ডাক দিতে পারেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে রাষ্ট্রপতি শাসন বা পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • Link to this news (এই সময়)