সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে নোটা। এমনই পরিস্থিতি দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক বিধানসভায়। যে ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কংগ্রেস নেতাদের কপালে। সর্বভারতীয় একটি দলের যে এমন পরিণতি হতে পারে, তা ভাবতে গিয়ে বিস্মিত দলীয় নেতৃত্বই।
কংগ্রেসের চেয়ে কিঞ্চিৎ এগিয়ে থাকলেও বামফ্রন্টের অবস্থাও তথৈবচ। অর্ধেকের বেশি বিধানসভাতেই ১০ হাজারেরও কম ভোট পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। যে ঘটনায় চোখ কপালে উঠছে বাম নেতাদেরও। তবে দু'পক্ষই জানিয়েছে, তৃণমূলকে সরাতে মানুষ তৈরিই ছিল। তাই দল, মত কোনও কিছু না দেখেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। তবে, এ বার খরা কাটার আশায় বুক বাঁধছে দুই দলই।
কখনও তৃণমূলের সঙ্গে, কখনও বামফ্রন্টের সঙ্গে পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে জোট বেঁধে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। ২০১১-য় রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। কিন্তু তাতে যে আখেরে কংগ্রেসের কোনও লাভ হয়নি, তা বুঝেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই এ বার একলা লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিল কংগ্রেস। লক্ষ্য ছিল, হারানো ভোট নিজেদের বাক্সে ফেরানো। নির্বাচনের শেষে দেখা গেল, বেশিরভাগ বিধানসভাতেই কংগ্রেস ভোট পেয়েছে নোটার কাছাকাছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে নোটার থেকেও পিছিয়ে পড়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা রয়েছে। যার মধ্যে ৬টি বিধানসভায় নোটার চেয়ে কম ভোট পেয়েছে কংগ্রেস। গড়বেতা, দাসপুর বিধানসভাতেও নোটার চেয়ে পিছিয়ে কংগ্রেস। কংগ্রেস কেবলমাত্র দু'টি বিধানসভায় ১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। খড়াপুর সদর (১.৭৮%) ও শালবনি (১.০১%)। বাকি সর্বত্রই ১ শতাংশের নীচে ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। এক সময়ে সবং, খড়াপুর সদরের মতো শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিধানসভার বহু বুথে কংগ্রেস ৩টি বা ৫টি ভোটও পেয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি অনিল শিকারিয়া বলেন, 'আমাদের প্রাপ্ত ভোট সত্যিই কম। কিন্তু এ বার ভোট হয়েছে অন্যরকম। মানুষ একরোখা হয়ে তৃণমূলকে সরাতে ভোট দিয়েছে। এ বার বুঝতে পারছি, মানুষের কাছে জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে গিলে নিশ্চিত ধীরে ধীরে ভোট বাড়বে।'
বামফ্রন্টের পরিস্থিতিও একেবারে তলানিতে। ১৫টি বিধানসভার মধ্যে মাত্র ৫টি বিধানসভায় ১০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছে। বাকি কোথাও সাড়ে তিন হাজার তো কোথাও সাড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি। শতাংশের হারে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন গড়বেতার সিপিএম প্রার্থী তপন ঘোষ (৬.৪১%)। বাকি কোথাও ১.৬৪% তো কোথাও সাড়ে ৩% বা ৫% ভোট পেয়েছে বামফ্রন্ট। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক বিজয় পালের কথায়, 'মানুষ তৃণমূলকে সরাতে গিয়ে মতাদর্শ ভুলে জোট বেঁধেছিলেন। ফলে আমাদের কিছুই করার ছিল না। তৃণমূল ও বিজেপি একই কয়েনের দুই পিঠ। এতদিন বিজেপি ক্ষমতায় ছিল না বলে মুখোশের সঙ্গে লড়াই হয়েছে। সরকারে আসায় সরাসরি লড়াই হবে। মানুষ ভুল বুঝে আবার বামপন্থায় ভরসা রাখবেন।'