এই সময়: রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আঁচ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একাধিক কলেজের ইউনিয়নে উড়ল বিজেপির পতাকা। বুধবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার একাধিক কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন রুমে বিজেপির পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছে। যদিও বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি–র দাবি, ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকাতেই পতাকা টাঙানো হয়েছে। তাঁদের উপরে যেন কোনও অন্যায় না হয় সে দিকে এবিভির নজর থাকবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির একাধিক কলেজে টিএমসিপির ইউনিয়নে রাতারাতি গেরুয়া পতাকা উড়তে শুরু করেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি শান্তিকুঞ্জের পাশেই রয়েছে কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজ। শুভেন্দু, দিব্যেন্দু ও সৌমেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে হাতে খড়ি এই কলেজেই। শুধু তাই নয় শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল ছাড়ার আগে পর্যন্ত এই কলেজে ছিল অধিকারীদের দাপট। বিধানসভা নির্বাচনের গণনা কেন্দ্র হয়েছিল এই কলেজে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী কলেজ ছাড়তেই বিজেপির কর্মী–সমর্থকরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে কলেজে ঢুকে গেটে ও ইউনিয়ন রুমের সামনে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেন। একই ভাবে মহিষাদল রাজ কলেজ, রামনগর কলেজ, নন্দীগ্রাম কলেজ, এগরা কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ফেস্টুন ব্যানার–সহ অন্য জিনিস সরিয়ে বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি শতদল বেরা বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক ভাবে বিজেপি কলেজ ইউনিয়ানগুলির দখল নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে হাইকোর্টের নির্দেশে সমস্ত কলেজের ইউনিয়ন অফিস বন্ধ রয়েছে। বিজেপির নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কাজে করে না। এই ঘটনার কড়া নিন্দা করছি আমরা।’ যদিও ইউনিয়ন রুম দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রমুখ সায়ন পণ্ডা বলেন, ‘আমরা আরএসএসের ছাত্র সংগঠন করি। আমরা দখল করি না। টিএমসিপির অত্যাচার ও দাদাগিরিতে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। আরজিকরের মতো ঘটনা ঘটেছে। এত দিন আমরা কলেজে ঢুকতে পারতাম না। আমরা কলেজ দখল করতে পতাকা লাগায়নি। আমরা পতাকা লাগিয়েছি ছাত্রছাত্রীদের আশ্বস্ত করতে। বোঝাতে চেয়েছি এ বার থেকে আমারা ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি। কোনও অন্যায় হতে দেবো না।’ ময়না কলেজের ইউনিয়নরুমেও বিজেপির পতাকা ওড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা এবং পিংলা কলেজের ইউনিয়ন রুমেও বিজেপির পতাকা ওড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এবিভিপির বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কলেজে কলেজে এবিভিপির দাপাদাপি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, কেডি কলেজ, কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত কলেজ, গড়বেতা কলেজ, গোয়ালতোড় কলেজ–সহ বিভিন্ন কলেজের গেটে লাগানো হয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের ঝান্ডা-ফেস্টুন।
ঝাড়গ্রামেও একাধিক কলেজের ইউনিয়ন রুমে বিজেপির পতাকা ওড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের ক্যাম্পাসে ও ইউনিয়ন রুমে এবিভিপি ঝান্ডা টাঙিয়ে দেয়। কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মিষ্টি খাওয়ানো হয়। মঙ্গলবার মানিকপাড়া বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী কলেজে এবিভিপি–র পক্ষ থেকে ইউনিয়ন রুমে ঝান্ডা বাঁধা হয়।