• বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরসভা দখল নিয়ে নেতৃত্বের সমালোচনায় উজ্জ্বল
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • এই সময়, সিউড়ি: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে গত পুরভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরসভা দখল ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বিধানসভা ভোটে পরাজিত হয়ে বিস্ফোরক সিউড়ির পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি, নিজের হারের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরের অন্তর্ঘাতকে দায়ী করছেন তিনি। এমনকী, আগামী ১৬ মে মধ্যেই পুরসভার অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

    এ দিন সিউড়ি পুরসভায় বসে উজ্জ্বল বলেন, ‘সিউড়ি পুরসভার চারটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা কী ভাবে অন্তর্ঘাত করছেন, তার প্রমাণ আমার হাতে এসেছে। তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে এই কাজ করেছেন। সাংসদ শতাব্দী রায়কে সমস্ত কথা জানিয়েছি। তিনি যেমন নির্দেশ দেবেন, তেমন কাজ করব।’ দলবদলের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে উজ্জ্বল বলেন, ‘পৃথিবীটা গোল। কখন কী হয়, কে জানে। তাই যে কোনও সম্ভাবনা থাকে। নতুন সরকার গঠন হলে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সিউড়ি জল প্রকল্প নিয়ে কথা বলব।’

    এ প্রসঙ্গে সিউড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোট না করে পুরসভার দখল নিয়ে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য আসলে বিলম্বিত বদমাইশি। সিউড়ির মানুষ মুখিয়ে আছেন। তাঁরা এই ধরনের লোকদের আগামী কয়েক মাস পরে উচিত শিক্ষা দেবেন।’

    এর আগেও অবশ্য বীরভূমে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব উঠে এসেছে। দুবরাজপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেশচন্দ্র বাউড়ি খারাপ ফলাফলের জন্য দলের একাংশকে দায়ী করে ফলঘোষণার দিনই বলেছিলেন, ‘দলের সবাই পাশে দাঁড়াননি। অনুব্রত মণ্ডল দলের কোর কমিটির আহ্বায়ক হওয়া সত্ত্বেও আমার হয়ে প্রচার আসেননি। দলে কোর কমিটির নেতা সুদীপ্ত ঘোষ খয়রাশোলের দায়িত্বে থাকলেও প্রচার করেননি। এটা পুরোটাই অন্তর্ঘাত।’

    শতাব্দী বলেছিলেন, ‘দলের কর্মীরা সক্রিয় থাকলে ভালো রেজাল্ট হয়। কিন্তু রেজাল্ট খারাপ হলে তো তাঁদের গাফিলতি উঠে আসে। কোথাও সক্রিয়তার অভাব ছিলো বৈকি!’ হাসন কেন্দ্রে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখও ভোটের ফলঘোষণার পরে বলেছিলেন, ‘তৃণমূলকে হারানোর ক্ষমতা বিজেপির কোনও কালে থাকার কথা নয়। যদি না, তৃণমূল তৃণমূলকে হারায়।’

    এ ছাড়াও তিনি বলেছিলেন, ‘বোলপুরের বেশ কিছু অংশ নানুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। সেখানে তৃণমূল ভোট পায়নি। ভোট পেয়েছে বিজেপি। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, কে কার ভোট করেছে।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নাম না করে জেলার প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি তথা বর্তমানে জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন কাজল। ফোন সুইচড অফ থাকায় অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)