• টাটাদের ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করল কলকাতা হাইকোর্ট
    এই সময় | ০৭ মে ২০২৬
  • সিঙ্গুরে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য টাটাদের ৭৬৬ কোটি টাকা ফেরানোর যে নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল, সেই নির্দেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার পরেই টাকা ফেরানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের একক বেঞ্চ।

    ২০২৩ সালে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে টাটাদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে দাবি করেছিল, তাঁর রায় পক্ষপাতদুষ্ট। হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরেই রাজ্য যায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতও হাইকোর্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে। মামলা আবার হাইকোর্টেই ফেরত পাঠানো হয়। সেই মামলায় আগেই শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল হতে চলেছে। ভোটে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তার আগেই তৃণমূল সরকারের সেই মামলায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিল।

    সিঙ্গুরে কারখানা না-হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আদালত। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর রাজ্যকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে একটি বিবৃতিও জারি করে টাটা গোষ্ঠী। সেখানে তারা জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সিঙ্গুরে অটোমোবাইল কারখানা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সর্বসম্মত ভাবে ট্রাইব্যুনাল, টাটা মোটরসকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা দিতে বলেছে। সেই সঙ্গে, ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো ক্ষতিপূরণ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে বলা হয়েছে।

    ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয় পাওয়ার পরে হুগলির সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। টাটাকে এ বাবদ ১০০০ একর জমি দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুরে গাড়ি প্রকল্প গড়তে পারেনি টাটা। গাড়ি প্রকল্প যখন ব্যর্থ হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার টাটার কাছে জমি ফেরত চেয়ে পাঠায়। টাটা গোষ্ঠী জমি ফেরাতে সম্মত হয়। পাশাপাশি, জমি ফেরানো বাবদ খরচ দাবি করে রাজ্য সরকারের কাছে। জমির দামের সঙ্গেই সেই খরচের অন্তর্গত ছিল ওই জমির পিছনে টাটার বিনিয়োগ করা অর্থও। টাটার প্রস্তাবে রাজি হয়নি রাজ্য সরকার। তার পর সেই লড়াই যায় আদালতে।

  • Link to this news (এই সময়)