সৌমেন রায়চৌধুরী
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের খুনের ঘটনা ঘিরে তোলপাড় গোটা রাজ্য। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে ফ্ল্যাটের একেবারে সামনেই খুন হন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (৪২)। তাঁর গাড়ি ঘিরে একেবারে সামনে থেকে পর পর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। যখন এই ঘটনা ঘটে, সেই সময়ে সুশান্ত সরকার নামে এক বিজেপি কর্মী পথকুকুরদের খাবার দিচ্ছিলেন। সুশান্ত জানান, সেই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল।
সুশান্ত সরকারের দাবি, গোটা ঘটনাই পূর্ব পরিকল্পিত এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘটানো হয়েছে। বুধবার রাত তখন ১০টা সাড়ে ১০টা। তিনি কুকুরদের খাবার দিচ্ছিলেন। আচমকাই গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের দিকে দৌড়ে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ির সামনে একটি ছোট গাড়ি আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করানো রয়েছে। ছোট গাড়ির ভিতরে কেউ ছিল না। তবে স্করপিওর ভিতরে একজন ব্যক্তি আতঙ্কিত অবস্থায় বসে কাঁদছিলেন এবং ভয়ে দরজা খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না।
সুশান্ত জানান, তিনি সাহস জোগানোর পরে ওই ব্যক্তি গাড়ির দরজা খোলেন। এর পরেই গাড়ির ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় আরও দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই তুমুল বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে লোক কম ছিল। আর যেখানে এই ঘটনা ঘটে, দোহারিয়ার এই এলাকায় এমনিই রাত ৮টার পরে একটু ফাঁকা থাকে বলে দাবি সুশান্তর। এখান থেকে এক মিনিটও লাগে না যশোহর রোড যেতে। আততায়ীরা একেবারে ঠান্ডা মাথায় সব প্ল্যান করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি সুশান্তর।
ঘটনার পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। আর তার পরেই সামনে আসে নিহত যুবক শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক।
সুশান্ত বলেন, ‘এই অলিগলি না চিনলে বা আগে থেকে রেইকি না করলে এমন নির্জন জায়গা বেছে নেওয়া সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল দোহারিয়া শৈলেশ নগর এলাকা, যা যশোর রোড থেকে মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে।’
বারাসত হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত হবে চন্দ্রনাথের দেহের। তার পরেই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে।