স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফর ও শনিবার ব্রিগেডে মোদীর উপস্থিতিতে শপথগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল ফোনে। ফোনের একপারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ, উল্টোদিকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। এর মাঝেই হঠাৎ গোঙানির শব্দ এবং অস্পষ্ট আওয়াজ। তা যে গুলির শব্দ তা হয়তো শঙ্কর সেই সময়ে বোঝেননি। এর পরেই কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা।
বুধবার রাত ১০টা নাগাদ উল্টোডাঙা থেকে ফেরার পথে তিনি ফোনে কথা বলছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথের সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই হঠাৎ ওপাশে চন্দ্রনাথের স্বর বদলে যায়, ভেসে আসে গুলির শব্দ। শঙ্কর বারবার চিৎকার করে ডাকলেও ওপাশ থেকে আর সাড়া আসেনি। ব্যাকুল হয়ে মেসেজ করেন, ‘কীরে ঠিক আছিস তো?’ উত্তর আসেনি। পুনরায় ফোন করলে এক অপরিচিতের মুখ থেকে শঙ্কর জানতে পারেন, তাঁর বন্ধুকে গুলি করা হয়েছে।
স্তম্ভিত শঙ্কর তৎক্ষণাৎ শুভেন্দু অধিকারীকে খবর দিয়ে নিজে ছোটেন মধ্যগ্রামের ওই বেসরকারি হাসপাতালের দিকে। রাত ২টোয় হাসপাতালের ওয়েটিং লাউঞ্জে পা ছড়িয়ে বসে থাকা শঙ্করের শূন্য দৃষ্টি আর বিধ্বস্ত অবয়বই বলে দিচ্ছিল ভিতরের রক্তক্ষরণ। শঙ্কর এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমার বলার কোনও ভাষা নেই। আমাদের বিধানসভায় যতজন বিধায়ক ছিলেন, সবার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু দা’র আপ্ত সহায়ক ছিলেন। আর কিছু বলার নেই।’
বিজেপির দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল ‘অত্যন্ত পরিকল্পিত’। মধ্যগ্রামের ফ্ল্যাটে ফেরার পথে বিধানসভার সরকারি গাড়ি আটকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় আততায়ীরা। বুক ফুঁড়ে দেওয়া সেই ঘাতক বুলেটের সামনে চালক আহত হয়েও সাহসিকতার পরিচয় দেন, কিন্তু বাঁচানো যায়নি চণ্ডীপুরের ভূমিপুত্রকে।